আমেরিকার চাপের কাছে কি নতিস্বীকার মোদীর? ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তি বাতিল করলেও ভারত কেন চুপ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক নীতির দাপটে যখন বিশ্ববাণিজ্য টালমাটাল, তখন আমেরিকার Supreme \titleonly কোর্ট ট্রাম্পের সেই সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। আদালতের এই রায়ের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) তাৎক্ষণিকভাবে আমেরিকার সঙ্গে তাদের প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দিলেও, ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকারের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে এখন দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ট্রাম্পের নীতিতে আদালতের ধাক্কা ও ইউরোপের কড়া অবস্থান
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমদানিকৃত পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক চাপিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে কোণঠাসা করার যে কৌশল নিয়েছিলেন, মার্কিন শীর্ষ আদালত তাতে বাদ সেধেছে। আদালতের রায়ের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি সম্ভব নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিটির প্রধান বার্ন লং স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি নিয়ে ধোঁয়াশা না কাটা পর্যন্ত তারা কোনো আলোচনায় বসবেন না। আগামী ৪ঠা মার্চ পর্যন্ত সমস্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ।
ভারতের কৃষকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন যখন নিজেদের দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমেরিকার চোখে চোখ রেখে কথা বলছে, তখন ভারত সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। অভিযোগ উঠেছে, এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন। তা সত্ত্বেও মোদী সরকার চুক্তি বাতিলের সাহসী কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে কেবল ‘পর্যবেক্ষণ করছি’ বলে দায় সারছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই ঢিলেঢালা মনোভাবকে দেশের স্বার্থবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মোদীকে রাহুল গান্ধীর তীব্র আক্রমণ
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে সরাসরি নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কোনো আলোচনা না করেই মোদী একতরফাভাবে আমেরিকার সঙ্গে এই চুক্তিতে সায় দিয়েছেন। রাহুল গান্ধী বলেন, “আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের জাতীয় স্বার্থকে বন্ধক রেখেছেন। যদি ওঁর সাহস থাকে, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো এই জনবিরোধী চুক্তি বাতিল করে দেখান।” তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, এই ইউএস-ইন্ডিয়া ট্রেড ডিল আসলে ভারতের অন্নদাতাদের বুকে তীরের মতো বিঁধবে।
নীরবতা কি সম্মতির লক্ষণ?
বিপক্ষ দলগুলোর দাবি, ট্রাম্পের চাপের কাছে কি তবে নতিস্বীকার করেছে দিল্লি? যেখানে বিশ্বের বড় বড় শক্তিগুলো আমেরিকার একগুঁয়েমির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে, সেখানে ভারত কেন নীরব? এই বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে যায় এবং মোদী সরকার শেষ পর্যন্ত কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।

