আমেরিকার সামরিক শক্তির ‘রিমোট কন্ট্রোল’ চিনের হাতে? রেয়ার আর্থ ইস্যুতে মহা ফাঁপড়ে ট্রাম্প! – এবেলা

আমেরিকার সামরিক শক্তির ‘রিমোট কন্ট্রোল’ চিনের হাতে? রেয়ার আর্থ ইস্যুতে মহা ফাঁপড়ে ট্রাম্প! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আধুনিক বিশ্বের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং উন্নত প্রযুক্তির মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে ১৭টি বিশেষ খনিজের মধ্যে—যাদের একসঙ্গে বলা হয় ‘রেয়ার আর্থ’ (Rare Earth Elements)। যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, সাবমেরিন থেকে শুরু করে রাডার—আমেরিকার সর্বাধুনিক সব মারণাস্ত্রে ব্যবহৃত অত্যন্ত শক্তিশালী ম্যাগনেট তৈরি হয় এই বিশেষ উপাদান দিয়েই। কিন্তু উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিশ্বের এই রেয়ার আর্থের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে চিন। আর তাতেই ঘুম হারাম হতে বসেছে আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের।

কেন বাড়ছে মার্কিন উদ্বেগ?

আমেরিকা ও চিনের মধ্যে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিনের তরফ থেকে রেয়ার আর্থ এবং এর থেকে তৈরি পণ্যের রফতানির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করায় পেন্টাগনের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিশ্বে উৎপাদিত রেয়ার আর্থের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াকরণ বা শোধন করার ক্ষমতা একাই ধরে রেখেছে বেজিং। এমন কি ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আমেরিকা যে পরিমাণ রেয়ার আর্থ আমদানি করেছিল, তার প্রায় ৭৫ শতাংশই এসেছিল চিন থেকে।

খনি থাকলেও প্রক্রিয়াকরণে পিছিয়ে আমেরিকা:

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘মাউন্টেন পাস’ এর মতো বিশাল রেয়ার আর্থ খনি থাকলেও আসল সমস্যা প্রক্রিয়াকরণে। খনি থেকে কাঁচামাল বের করার পর সেটিকে রাসায়নিকভাবে আলাদা করা এবং সামরিক ব্যবহারের উপযোগী ম্যাগনেটে রূপান্তর করার যে পরিকাঠামো প্রয়োজন, তাতে আমেরিকা এখনও চিনের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। ফলে চিন সরবরাহ কমিয়ে দিলে বা বন্ধ করলে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।

চিন সাপ্লাই বন্ধ করলে কি অচল হয়ে যাবে মার্কিন সেনা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন যদি রাতারাতি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তার মানে এই নয় যে আমেরিকার যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে ওড়া বন্ধ করে দেবে। বর্তমানের সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে মার্কিন সেনা সচল থাকবে। তবে আসল ধাক্কা আসবে দীর্ঘমেয়াদে—নতুন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন বা মিসাইল তৈরির গতি অনেকটাই কমে যাবে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশাল অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হবে।

চিনের থাবা থেকে মুক্ত হতে আমেরিকার বিকল্প ছক:

চিনের ওপর এই অতি-নির্ভরতা কমাতে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমেছে ওয়াশিংটন। ২০২০ সাল থেকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর নিজেদের দেশেই খনি থেকে ম্যাগনেট তৈরির সম্পূর্ণ ‘সাপ্লাই চেইন’ গড়ে তোলার জন্য ৪৩৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো, কাঁচামাল তোলা থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ ও অস্ত্র তৈরির চূড়ান্ত ধাপ—সবটাই যেন আমেরিকার নিজেদের মাটিতেই করা সম্ভব হয়।

তবে এই পরিকাঠামো পুরোপুরি গড়ে না ওঠা পর্যন্ত, চিনের হাতেই থাকছে আমেরিকার অস্ত্র তৈরির এক অদৃশ্য চাবিকাঠি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *