আমেরিকার হৃৎকম্প বাড়াতে ইরানের হাতে সেই ব্রহ্মাস্ত্র! আট দশক আগের ভয়াবহ স্মৃতি কি তবে ফিরছে – এবেলা

আমেরিকার হৃৎকম্প বাড়াতে ইরানের হাতে সেই ব্রহ্মাস্ত্র! আট দশক আগের ভয়াবহ স্মৃতি কি তবে ফিরছে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আট দশক আগে ১৯৪৫ সালে মার্কিন রণতরী সিএ-৩৫ যেভাবে জাজল ডুবোজাহাজের আঘাতে সলিলসমাধি নিয়েছিল, সেই স্মৃতি উসকে দিচ্ছে বর্তমান ভূ-রাজনীতি। সম্প্রতি ইরানের বায়ুসেনা কমান্ডার শাহরাম ইরানি এক নতুন মারণাস্ত্র মোতায়েনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যা সরাসরি আমেরিকার নৌ-প্রতিরক্ষাকে লক্ষ্য করে তৈরি বলে দাবি করা হচ্ছে। এই হুমকিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা বাড়ছে, কারণ ইরানের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য মূলত মার্কিন রণতরীগুলো।

গতি ও ধ্বংসক্ষমতায় অনন্য ‘হুট’

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ আসলে উচ্চগতির টর্পেডো ‘হুট’। ২০০৬ সালে প্রথমবার প্রকাশ্যে আসা এই অস্ত্রটি ঘণ্টায় প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে সক্ষম। এর বিশেষত্ব হলো জলের নিচে এর অবিশ্বাস্য গতি, যা মুহূর্তের মধ্যে শত্রু জাহাজকে ফালাফালা করে দিতে পারে। শাহরাম ইরানির ভাষায়, এই অস্ত্র শত্রু শিবিরের হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে এটি নতুন কোনো প্রযুক্তি নয়, বরং আগের সংস্করণের এক উন্নত রূপ বলে মনে করা হচ্ছে।

বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা

হুমকি ও আস্ফালন থাকলেও ইরানের এই পরিকল্পনার পথে বড় বাধা রয়েছে। হুট-এর পাল্লা মাত্র ১৫ কিলোমিটার, যার অর্থ মার্কিন রণতরীকে আঘাত করতে হলে ইরানকে অনেক কাছে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কলনের মতো আধুনিক মার্কিন প্রতিরক্ষা বলয় ফাঁকি দিয়ে এত কাছে যাওয়া প্রায় আসাম্ভব। এছাড়া জলের নিচে প্রচণ্ড গতি ও শব্দের কারণে এই অস্ত্রের নির্ভুলতা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন কাজ। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

এক ঝলকে

  • ইরানের বায়ুসেনা কমান্ডার শাহরাম ইরানি শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করতে উচ্চগতির ‘হুট’ টর্পেডো মোতায়েনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
  • ৩৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতির এই অস্ত্রটি ১৯৪৫ সালের মার্কিন রণতরী ধ্বংসের ইতিহাসের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।
  • মাত্র ১৫ কিলোমিটার রেঞ্জ হওয়ায় আমেরিকার শক্তিশালী নৌ-প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করা ইরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
  • এই মারণাস্ত্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *