আরএসএস প্রচারক থেকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী, দিলীপ ঘোষের হাত ধরেই কি বাংলায় ইতিহাস লিখল বিজেপি?

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক সময়ের ‘অপ্রাসঙ্গিক’ ভারতীয় জনতা পার্টি আজ ২০৭টি আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় আসীন। এই অবিশ্বাস্য উত্থানের অন্যতম কারিগর হিসেবে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ। খড়গপুর সদর থেকে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে, তৃণমূল স্তরে জনসংযোগ এবং দলীয় সংগঠন মজবুত করার ক্ষেত্রে তাঁর বিকল্প মেলা ভার। ১৯৮৪ সালে আরএসএস প্রচারক হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই নেতার হাত ধরেই মূলত গ্রাম বাংলায় গেরুয়া শিবিরের ভিত তৈরি হয়েছিল।
শূন্য থেকে ২০৭ আসনের রূপকার
২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যেখানে বিধানসভায় বিজেপির কোনো অস্তিত্ব ছিল না, সেখান থেকে ২০২৬-এ এসে ক্ষমতা দখল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন দিলীপ ঘোষ যেভাবে উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল চষে বেড়িয়েছেন, তার ফসল আজ ঘরে তুলল দল। ২০১৬ সালে মাত্র ৩টি আসন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় তাঁর স্থান পাওয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের এক অনন্য স্বীকৃতি।
সংগঠক থেকে ক্ষমতার অলিন্দে
হলফনামা অনুযায়ী ৩.১ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক দিলীপ ঘোষ নিজেকে একজন ‘পূর্ণসময়ের কর্মী’ হিসেবেই পরিচয় দেন। ব্যক্তিগত কোনো ঋণ না থাকলেও তাঁর নামে ২৮টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যা মূলত তাঁর রাজনৈতিক লড়াইয়ের তীব্রতাকেই প্রকাশ করে। বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসন এবং তৃণমূলের ১৫ বছরের একাধিপত্য চুরমার করে দিয়ে বিজেপির এই জয়ের পেছনে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মন্ত্রিত্বের নতুন দায়িত্ব নিয়ে তিনি উন্নয়নের পথে বাংলাকে কতদূর এগিয়ে নিয়ে যান, এখন সেটাই দেখার।
এক ঝলকে
- খড়গপুর সদর কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ।
- ১৯৮৪ সালে আরএসএস প্রচারক হিসেবে জীবন শুরু করে ২০১৪ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণ করেন।
- তাঁর নেতৃত্বেই দল ২০১৬-তে ৩টি আসন থেকে বেড়ে ২০২৬-এ ২০৭টি আসনে পৌঁছে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।
- বর্তমানে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩.১ কোটি টাকা এবং বার্ষিক আয় ২০.১ লক্ষ টাকা।
