“আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খোলা হবে”, মসনদে বসার আগেই হুঙ্কার শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হয়েই রাজ্য প্রশাসনে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার অমিত শাহের উপস্থিতিতে পরিষদীয় দলের বৈঠকে তাঁর নামে সিলমোহর পড়ার পর প্রথম ভাষণেই তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ক্ষমতা দখলের পর প্রতিহিংসা নয় বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘ রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০৭টি আসন নিয়ে রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গড়তে চলায় শুভেন্দুর এই কঠোর অবস্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তদন্তে বিশেষ কমিশন ও বিচারপতির নজরদারি
শপথ নেওয়ার আগেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে, আরজি করের নৃশংস ঘটনা এবং সন্দেশখালিতে মহিলাদের ওপর হওয়া অত্যাচারের তদন্তে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি রুখতে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নজরদারিতে তদন্ত প্রক্রিয়া চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। বিগত সরকারের আমলে মহিলাদের অভিযোগ সংবলিত যে ফাইলগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলো পুনরায় খোলার নির্দেশ দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে অপরাধীদের রেহাই দেওয়া হবে না।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইনি কঠোরতা
নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় এবার রাজ্যের প্রভাবশালী আমলা ও রাজনৈতিক নেতারাও রয়েছেন। শুভেন্দুর মতে, গত কয়েক বছরে প্রশাসনিক মদতে যাঁদের ওপর মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়েছে, তাঁদের আইনি সহায়তা দেবে সরকার। একইসঙ্গে দুর্নীতির প্রমাণ মিললে সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সরাসরি এফআইআর এবং জেল হাজতে পাঠানোর মাধ্যমে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনাই তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য।
আগামী ৯ মে ব্রিগেডের বিশাল সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজভবনের চার দেয়ালের বাইরে জনগণের সামনে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজেপি রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করতে চাইছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর এখন শুভেন্দুর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিশ্রুত উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলার ভারসাম্য বজায় রাখা।
এক ঝলকে
- পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম লক্ষ্য আরজি কর ও সন্দেশখালির ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা।
- হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের অধীনে বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা।
- দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা ও নেতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি।
- ৯ মে ব্রিগেডে নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে রাজকীয় আয়োজনে শপথ নিতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকার।
