আলু রফতানিতে কোনো বাধা নেই, মিথ্যা প্রচার রুখতে খানাকুল থেকে চাষিদের কড়া বার্তা অভিষেকের

আলু রফতানিতে কোনো বাধা নেই, মিথ্যা প্রচার রুখতে খানাকুল থেকে চাষিদের কড়া বার্তা অভিষেকের

হুগলির খানাকুলের সভা থেকে আলু চাষিদের আশ্বস্ত করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাজ্যে আলু রফতানির ক্ষেত্রে সরকারি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। রফতানি বন্ধ নিয়ে বিরোধীরা মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিষেক জানান, গত ২৫ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে কেবল তারকেশ্বর ও পুরশুড়া স্টেশন থেকে চারটি রেকে করে প্রায় এক লক্ষ ৬৮ হাজার বস্তা আলু ত্রিপুরা ও আসামে পাঠানো হয়েছে। ফলে ভিন রাজ্যে আলু পাঠানো নিয়ে যে জটিলতার কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সাধারণত প্রতি বিঘায় যেখানে ৬৫-৭০ বস্তা ফলন হয়, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১২০ বস্তায়। গত বছর রাজ্যে এক কোটি ৪০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হলেও এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ফলন বেশি হওয়ায় চাষিরা সঠিক দাম পাচ্ছেন না বলে যে প্রচার চলছে, তার নেপথ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের উদাসীনতাকে দায়ী করেন তিনি। বিশেষ করে সার এবং নাইলনের বস্তার আকাশছোঁয়া দাম বৃদ্ধির ফলে চাষিদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।

চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে অভিষেক জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রতি কুইন্টাল আলু প্রায় ৯৫০ টাকা দরে কিনছে, যেখানে অন্য রাজ্যে এই দাম মাত্র ৩৫০-৪০০ টাকা। হিমঘরের সমস্যা মেটাতে রাজ্যজুড়ে নতুন ৫০টি হিমঘর তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খানাকুলের সভায় তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী জুন মাসের মধ্যেই এলাকায় আরও এক-দুটি হিমঘর নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। মূলত রফতানি ও ন্যায্য মূল্যের নিশ্চয়তা দিয়ে আলু চাষিদের দুশ্চিন্তা মুক্ত করাই ছিল তাঁর এই সভার মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *