আসানসোলে লাউডস্পিকার নিয়ে ধুন্ধুমার: পুলিশ চৌকিতে ভাঙচুর-পাথরবৃষ্টি, পরিস্থিতি সামলাতে লাঠিচার্জ – এবেলা

আসানসোলে লাউডস্পিকার নিয়ে ধুন্ধুমার: পুলিশ চৌকিতে ভাঙচুর-পাথরবৃষ্টি, পরিস্থিতি সামলাতে লাঠিচার্জ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে লাউডস্পিকার বিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। কসাই মহল্লা ও জাহাঙ্গিরী মহল্লা পুলিশ ফাঁড়ি লক্ষ্য করে আচমকা উন্মত্ত জনতার হামলা, ভাঙচুর এবং ব্যাপক পাথর ছোঁড়ার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় লাউডস্পিকারের ব্যবহার সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক অভিযানকে কেন্দ্র করে। মসজিদ কমিটির সদস্যরা যখন উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন, ঠিক তখনই একদল দুষ্কৃতী আচমকা পুলিশ ফাঁড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে জাহাঙ্গিরী মহল্লা পুলিশ ফাঁড়ির ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালায় হামলাকারীরা। ফাঁড়ির ভেতরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক পুলিশি যানবাহন ও মোটর সাইকেলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়।

নেপথ্যের কারণ ও আইন নিজের হাতে নেওয়ার প্রবণতা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাউডস্পিকার বাজানোর ওপর বিধিনিষেধ বা পুলিশি ধরপাকড়ের জেরেই এই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া চলাকালীন কিছু সুযোগসন্ধানী ও সমাজবিরোধী উপাদান আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। কোনো উস্কানি ছাড়াই পুলিশের ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন যে, প্রশাসনের সঙ্গে কোনো বিরোধ থাকলে তা আলোচনার টেবিলে মেটানো উচিত ছিল, থানা বা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনার পর আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি আধিকারিকরা র‍্যাফ ও আধাসামরিক বাহিনী (প্যারামিলিটারি ফোর্স) ময়দানে নামায়। বর্তমানে লাঠিচার্জ করে উপদ্রুত এলাকা ফাঁকা করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি ভি. জি. সতীশ পাসুমার্থী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং সরকারি সম্পত্তিতে আঘাত ও হিংসা ছড়ানোর দায়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *