আহমেদাবাদে আরসিবির রাজত্বে রাজনীতির রং, ট্রফি জয়ের রাতেও বিস্ফোরক কর্নাটকের হবু মুখ্যমন্ত্রী – এবেলা

আহমেদাবাদে আরসিবির রাজত্বে রাজনীতির রং, ট্রফি জয়ের রাতেও বিস্ফোরক কর্নাটকের হবু মুখ্যমন্ত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটান্সকে হারিয়ে যখন উৎসবে মাতোয়ারা বিরাট কোহলিরা, ঠিক তখনই এই সাফল্যের আলোয় এসে পড়েছে রাজনীতির ছায়া। আরসিবির শিরোপা জয়ের পরপরই দলটির সমর্থকদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন কর্নাটকের হবু মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উদযাপনের মাঝেই তাঁর এমন মন্তব্য ক্রিকেট ও রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আইপিএল ফাইনালের মঞ্চ হিসেবে আহমেদাবাদকে বেছে নেওয়া নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিবকুমার। তাঁর দাবি, এই মেগা ফাইনালটি আসলে বেঙ্গালুরুতেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ম্যাচটি শেষ মুহূর্তে গুজরাটে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘরের মাঠে প্রিয় দলের ফাইনাল ম্যাচ দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কর্নাটকের ক্রিকেটপ্রেমীরা। হবু মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রাদেশিকতা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ক্রিকেটীয় আবহে তীব্র শোরগোল ফেলে দিলেও, তিনি নিজে আর বিতর্ক না বাড়িয়ে বিষয়টি সংক্ষেপে এড়িয়ে গিয়েছেন।

ঐতিহাসিক জয় ও মাঠের লাকি ফ্যাক্টর

রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনের মাঝেও আরসিবির মাঠের পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে গুজরাট টাইটান্স মাত্র ১৫৫ রান তুলতে সক্ষম হয়। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালান বিরাট কোহলি। তাঁর ৪২ বলে ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংসের ওপর ভর করে সহজেই জয় তুলে নেয় বেঙ্গালুরু। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংসের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা দু’বার আইপিএল ট্রফি নিজেদের ঘরে তোলার অনন্য নজির গড়ল আরসিবি। মজার বিষয় হলো, দীর্ঘ ১৮ বছরের খরা কাটিয়ে ২০২৫ সালে যে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আরসিবি তাদের প্রথম ট্রফি জিতেছিল, ২০২৬ সালেও সেই একই মাঠে শিরোপা ধরে রাখল তারা। ফলে এই মাঠটি এখন বেঙ্গালুরু শিবিরের জন্য এক অন্যতম ‘লাকি ভেন্যু’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেল।

ক্রীড়াঙ্গনে সম্ভাব্য প্রভাব

ডিকে শিবকুমারের এই মন্তব্য আইপিএলের ভেন্যু নির্ধারণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল। দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের এই অভিযোগ আগামী দিনে বিসিসিআই এবং রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলোর মধ্যকার সম্পর্কে এক ধরনের দূরত্বের সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে কর্নাটক সরকারের সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ডের ভেন্যু বণ্টন সংক্রান্ত জটিলতা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হলো। তবে মাঠের বাইরে এই রাজনৈতিক বিতর্ক যে রূপই নিক না কেন, মাঠের ভেতরে বিরাট কোহলির আরসিবি যে এখন অপরাজেয়, তা টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রমাণিত হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *