আহসান মনসুরের বিদায় ও মুস্তাকুর রহমানের হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাটন, অর্থনীতিতে বড় চমক নাকি নতুন বিতর্ক – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 27, 202610:05 am
ঢাকা: বাংলাদেশের আর্থিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এই প্রথমবারের মতো কোনো পুরোদস্তুর ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদে বসাল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বুধবার এক নাটকীয় সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দেশের তৈরি পোশাক ও আবাসন খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ মুস্তাকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পৌঁছে নিজের দায়িত্বভার বুঝে নেন দেশের ১৪তম এই গভর্নর। দায়িত্ব নেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সংবাদমাধ্যমকে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে জানান, “আমি মাত্রই কাজে যোগ দিলাম। আগে কাজ শুরু করতে দিন, পরিস্থিতি বুঝে পরে বিস্তারিত কথা বলব।”
নিয়োগ ও আইনি প্রেক্ষাপট
কস্ট ম্যানেজমেন্টে এফসিএমএ (FCMA) ডিগ্রিধারী মুস্তাকুর রহমানকে আগামী ৪ বছরের জন্য এই সংবেদনশীল পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ অনুযায়ী গভর্নরের যোগ্যতার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের ওপর সরাসরি কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই। এর আগে ২০২৪ সালে গভর্নর পদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৭ বছরের বাধ্যবাধকতাও তুলে নেওয়া হয়েছিল, যা এই নতুন নিয়োগের পথকে আরও প্রশস্ত করেছে। তবে শর্তানুসারে, এই মেয়াদে তিনি নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসা বা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লাভজনক পদে আসীন থাকতে পারবেন না।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘স্বার্থের সংঘাত’
একদিকে সরকারের সমর্থকরা দাবি করছেন যে, একজন সফল ব্যবসায়ীর বাস্তব অভিজ্ঞতা দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশ এই নিয়োগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, একজন ‘রেগুলেটর’ বা নিয়ন্ত্রক হিসেবে যখন কোনো সক্রিয় ব্যবসায়ীকে বসানো হয়, তখন ‘কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। দেশের ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা ও খেলাপি ঋণের সংকটের মধ্যে একজন ব্যবসায়ী কতটুকু নিরপেক্ষভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবেন, তা নিয়ে এখন দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সরগরম আলোচনা।
বিএনপি নেতা তারেক রহমান এবং বর্তমান প্রশাসনের এই সাহসী অথচ বিতর্কিত পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের টালমাটাল অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ হবে নাকি ঝুঁকি বাড়াবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

