ইউক্রেনে ভারতীয় সেনা পাঠানোর প্রস্তাব নাকচ ডোনাল্ড ট্রাম্পের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকার ওভাল অফিসের এক গোপন বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক বিস্ফোরক অধ্যায় প্রকাশ্যে এসেছে সদ্য প্রকাশিত একটি বইয়ের মাধ্যমে। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি নজরদারির জন্য ভারতীয় ও সৌদি আরবের সৈন্যদের শান্তিদূত হিসেবে পাঠানোর এক বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে ভারতীয় কূটনীতি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা বিবেচনা করে এই প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে খারিজ করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৩ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত ‘রিজিম চেঞ্জ’ নামক একটি বই থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
ইউক্রেন সংকট ও ভ্যান্সের বিতর্কিত পরিকল্পনা
বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি ট্রাম্পের বিশেষ দূত অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিথ কেলগের আহ্বানে রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি চুক্তির খসড়া নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ন্যাটোর সদস্য বা ইউরোপীয় দেশগুলোর সৈন্য ইউক্রেনে মোতায়েন করলে তা রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের উসকানি হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং আমেরিকাও তাতে জড়িয়ে পড়তে পারে—এই আশঙ্কায় ভ্যান্স বিকল্প হিসেবে ভারতের নাম প্রস্তাব করেন। ভ্যান্সের পরিকল্পনা সফল হলে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে বহু ভারতীয় সেনার জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়তে পারত।
কূটনৈতিক প্রভাব ও ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাব শোনার সাথেই তা নাকচ করে দেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে এবং ভারত এই ধরণের আত্মঘাতী পদক্ষেপ বা বড় ক্ষতি কখনোই মেনে নেবে না। ট্রাম্পের এই দৃঢ় অবস্থানের কারণে ভারতের ওপর কোনো আন্তর্জাতিক সামরিক চাপ তৈরি হয়নি, যা ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা ও ট্রাম্প-মোদি ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কূটনৈতিক গুরুত্বকে পুনর্নিশ্চিত করে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, বৈশ্বিক সংকটে ওয়াশিংটন নিজের স্বার্থ সুরক্ষায় মিত্র দেশগুলোকে ব্যবহারের চেষ্টা করলেও শীর্ষ নেতৃত্বের দূরদর্শিতা বড় ধরনের আন্তর্জাতিক জটিলতা এড়াতে সাহায্য করেছে।
