ইউজিসি নির্দেশিকা কেন অসাংবিধানিক? এগুলি কি আইন নয়? প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) গত ১৫ জানুয়ারি ‘সাম্য বিধি ২০২৬’ (Equality Regulations 2026) ঘোষণা করেছে, যা বর্তমানে শুধুমাত্র নির্দেশিকা হিসেবে বিবেচিত। যদিও এই নিয়মগুলো সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত কোনো বিধিবদ্ধ আইন নয়, তবুও ইউজিসি এগুলি দেশজুড়ে সমস্ত কলেজ ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে এবং বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন।
আইন বনাম ইউজিসি নির্দেশিকা: পার্থক্য কোথায়?
ইউজিসির এই নতুন নিয়মাবলী নিয়ে বিতর্কের মূলে রয়েছে আইন ও নির্দেশিকার মধ্যকার সাংবিধানিক পার্থক্য:
- সংসদীয় আইন: লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিস্তারিত আলোচনা ও ভোটাভুটির মাধ্যমে কোনো বিল পাস হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর তা পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হয়। এর পেছনে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকে।
- ইউজিসি নির্দেশিকা: এগুলি ইউজিসি অ্যাক্ট ১৯৫৬-এর অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা দ্বারা তৈরি করা নিয়ম। এর জন্য সংসদে কোনো আলোচনা বা ভোটাভুটির প্রয়োজন হয় না; সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের অনুমোদন পেলেই এটি কার্যকর করা যায়। তবে মর্যাদার দিক থেকে এগুলি সবসময় সংসদের তৈরি আইনের নিচে থাকে।
- দণ্ড প্রদানের ক্ষমতা: সংসদের তৈরি আইন অপরাধের সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে পারে এবং তার ভিত্তিতে জেল বা জরিমানা করার ক্ষমতা রাখে। অন্যদিকে, ইউজিসি শুধুমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারে (যেমন—অনুমোদন বাতিল করা বা সরকারি অনুদান বন্ধ করা)। ইউজিসির এই প্রশাসনিক ক্ষমতাকে “আইন” হিসেবে গণ্য করা নিয়েই আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
কেন এই নির্দেশিকাকে অসাংবিধানিক বলা হচ্ছে?
আদালতে দায়ের করা পিটিশনে ইউজিসির এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক হিসেবে দাবি করার পেছনে মূলত তিনটি যুক্তি দেখানো হয়েছে:
১. ক্ষমতার অপব্যবহার: আবেদনকারীদের অভিযোগ, নতুন কোনো অধিকার বা অপরাধের সংজ্ঞা নির্ধারণ করার একচ্ছত্র ক্ষমতা কেবল সংসদের রয়েছে। ইউজিসি নিজের এক্তিয়ার বহির্ভূতভাবে আইনের মতো কঠোর বিধিমালা তৈরি করেছে, যা ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল।
২. ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন: ভারতীয় সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির (SC/ST/OBC) জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়ম তৈরি করা সমতার অধিকারের পরিপন্থী।
৩. ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অপপ্রয়োগ: অনগ্রসর শ্রেণির উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। তবে সেই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপকে কোনো দণ্ডমূলক বিধিতে রূপান্তরিত করা এবং তা কঠোরভাবে চাপিয়ে দেওয়া সংবিধানের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অপপ্রয়োগ বলে যুক্তি দিয়েছেন মামলাকারীরা।
দেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকার প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হবে, এখন তা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর নির্ভর করছে।

