ইউনুস জমানার অবসান ঘটিয়ে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীতে নয়া মোড়! তিস্তা থেকে বিদ্যুৎ সব নিয়ে বড়সড় ধামাকা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি ও ঢাকার কূটনৈতিক অলিন্দে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরে যেতেই ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের থমকে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আবার নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও কৌশলগত চুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশই এখন দ্রুতগতিতে এগোতে চাইছে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের জেরে যে ব্যবসায়িক স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে এখন লক্ষ্য দক্ষিণ এশিয়ার দুই বৃহত্তম প্রতিবেশীর মধ্যে ১৪০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
বিদ্যুৎ ও জলবণ্টন চুক্তিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
দুই দেশের মধ্যে আলোচনার টেবিলে এখন সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিদ্যুৎ এবং ফরাক্কার জলবণ্টন চুক্তি। ভারত থেকে দীর্ঘ ২৫ বছরের চুক্তিতে বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। তবে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা চাইছে বিদ্যুতের দামে কিছুটা সাশ্রয় বা সুরাহা। ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার ফলে দর কষাকষির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে ফরাক্কার গঙ্গাচল চুক্তি শেষ হতে চলেছে। সময়সীমা পার হওয়ার আগেই জুন মাসের মধ্যে এই চুক্তির পুনর্নবীকরণ করতে চাইছে দুই দেশ। আবহাওয়া পরিবর্তনের নিরিখে গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীতকালীন জলবণ্টনের ফর্মুলায় কিছু রদবদল আসতে পারে। এই বিষয়ে নয়াদিল্লি ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গেও কেন্দ্রের প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। তিস্তা জলবণ্টন নিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে স্থায়ী প্রতিশ্রুতির দাবি থাকলেও, ভারত সরকার সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে নারাজ নয়।
রেল ও বন্দর সচল করতে তৎপর দুই দেশ
রেলপথ এবং বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ স্বাভাবিক করতে শীঘ্রই রেল মন্ত্রক পর্যায়ের বৈঠক হতে চলেছে। বকেয়া প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করা এবং কন্টেনার সার্ভিস পুরোদমে চালু করাই এখন মূল লক্ষ্য। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং বিদেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন। বৈঠকের নির্যাস অনুযায়ী, দুই দেশই এখন ‘ভবিষ্যমুখী’ এবং ‘গঠনমূলক’ সম্পর্ক গড়ে তুলতে একমত।
হাসিনা ইস্যু সরিয়ে রেখেই কি বন্ধুত্বের পথে তারেক রহমান
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে সবথেকে বড় চমক হলো শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়া সত্ত্বেও বিএনপি সরকারের নরম মনোভাব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি লিখে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। বিএনপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শেখ হাসিনাকে আইনি ও কূটনৈতিক পথে প্রত্যর্পণের দাবি জানানো হলেও, তাকে কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে ব্যবসায়িক বা কৌশলগত সম্পর্কে কোনো তিক্ততা তৈরি করতে চায় না তারা। বরং উপমহাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে দিল্লির সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে আগ্রহী ঢাকা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় হতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

