ইদের আবহে জনসংযোগের মহোৎসব: বীরভূমের ভোটযুদ্ধে সংখ্যালঘু মনজয়ে মরিয়া প্রার্থীরা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আজ পবিত্র খুশির ইদ। লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই উৎসবের আবহে জনসংযোগের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ বীরভূম জেলার যুযুধান প্রার্থীরা। সিউড়ি থেকে বোলপুর, সর্বত্রই ইদগাহ ও মাজারগুলোতে সরাসরি ভোটপ্রচার না হলেও সৌজন্য বিনিময়ের মোড়কে ভোট ব্যাংক সুনিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন তৃণমূল, বাম ও বিরোধী শিবিরের হেভিওয়েট প্রার্থীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীরভূমের নির্বাচনী পাটিগণিতে সংখ্যালঘু ভোট অত্যন্ত নির্ণায়ক, তাই ধর্মীয় সম্প্রীতির বাতাবরণে ভোটারদের হৃদয়ে পৌঁছানোই এখন প্রার্থীদের প্রধান লক্ষ্য।
সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিক প্রচার স্থগিত রেখে আলুন্দ ও সাহাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫টি ইদ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। একইভাবে রামপুরহাটের আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বোলপুরের চন্দ্রনাথবাবুও ইদগাহে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি ম্যারাথন জনসংযোগ সারবেন। যদিও প্রার্থীরা একে নিছক ধর্মীয় সৌজন্য বলে দাবি করছেন, তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সরাসরি ভোট না চেয়েও ব্যক্তিগত হৃদ্যতা তৈরি করে বিরোধীদের তুলনায় এক কদম এগিয়ে থাকাই শাসক শিবিরের আসল রণকৌশল।
পিছিয়ে নেই বামেরাও; সিউড়ির বাম প্রার্থী মতিউর রহমান আজ পুরোদস্তুর জনসংযোগের কাজে মাঠে নেমেছেন। তৃণমূলের একাধিপত্যে ফাটল ধরাতে সংখ্যালঘু প্রধান গ্রামগুলোতে তাঁর উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল দলীয় কার্যালয়ে বসে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ের মাধ্যমে সংগঠন চাঙ্গা রাখার কৌশল নিয়েছেন। সব মিলিয়ে বীরভূমের নির্বাচনী উত্তাপে ইদের দিনটি ধর্মীয় গণ্ডি পেরিয়ে এক রাজনৈতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

