ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা, আতঙ্কে স্কুল ছাড়ল পড়ুয়ারা

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা, আতঙ্কে স্কুল ছাড়ল পড়ুয়ারা

বৃহস্পতিবার ভোররাতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৪। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৮ মিনিটে মলুকা সাগরে এই কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মাজু দ্বীপের কাছে টারনাটে থেকে ১১৯ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সেসমোলজি অনুযায়ী, ভারতীয় সময় ভোর ৪টে ১৮ মিনিটে এই দুর্যোগ ঘটে।

ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কেন্দ্রস্থল থেকে ১০০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বিপজ্জনক সুনামির সতর্কতা জারি করেছে মনিটরিং সেন্টার। ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও ফিলিপিন্স এবং মালয়েশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে এই সুনামির প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট বিধ্বংসী সুনামির স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে এই সতর্কতা উপকূলীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো ইতিমধেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও উত্তর সুলাওয়েসি অঞ্চলে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে একটি ক্রীড়া ভবন ও বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা গেছে। ঘটনার সময় স্থানীয় স্কুলগুলো সবে শুরু হয়েছিল, তীব্র কম্পন অনুভূত হতেই প্রাণভয়ে ছাত্রছাত্রীরা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নেন।

ইন্দোনেশিয়া ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়ই কম্পন অনুভূত হয়। তবে রিখটার স্কেলে ৭-এর ওপর মাত্রা থাকায় এবারের ঘটনাটি বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উদ্ধারকারী দলগুলো উপদ্রুত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *