ইরান নিয়ে ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অচলাবস্থা, ফের যুদ্ধের ছায়া! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে প্রায় দুই ঘণ্টার দীর্ঘ জরুরি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কোনো শান্তিপূর্ণ রফাসূত্র মেলেনি। এর ফলে তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জল্পনা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
শর্তের বেড়াজালে সমঝোতার পথ রুদ্ধ
বৈঠক শেষে ট্রাম্প তার সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ থেকে বিরত থাকা, হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং সমুদ্রের তলদেশ থেকে মাইন অপসারণের মতো কঠোর শর্তগুলো মানতে হবে ইরানকে। এছাড়াও তেহরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার ওয়াশিংটনের কাছে হস্তান্তর করার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথ সাফ জানিয়েছেন, এসব শর্ত মেনে কোনো নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে তেহরানে সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত আমেরিকা। তবে আমেরিকার এই কঠোর শর্তাবলী মানতে নারাজ ইরান, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার কোনো সম্ভাবনা বর্তমানে দেখা যাচ্ছে না।
যুদ্ধের প্রভাব ও উত্তজনা
ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং হরমুজ প্রণালীতে ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। ওয়াশিংটন বারবার তেহরানকে সীমাবদ্ধতার মধ্যে আনার চেষ্টা করলেও, ইরান নিজেদের অবস্থানের ব্যাপারে অনড় রয়েছে। এই অচলাবস্থার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক উত্তজনা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমেরিকা যদি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে তা কেবল ইরান নয়, বরং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
