ইরান-মার্কিন শান্তি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হলেও ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার আবহ কাটিয়ে অবশেষে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে আমেরিকা ও ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে ভেঙে যাওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন অর্থাৎ দুই মাসের জন্য বাড়াতে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। এই লক্ষ্যে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের পাশাপাশি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। তবে এই ঐতিহাসিক চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত রূপ নিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন না মেলায় চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
সমঝোতার মূল শর্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও অর্থনীতির সুরক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রথমত, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান ৩০ দিনের মধ্যে সমুদ্রের সমস্ত মাইন সরিয়ে ফেলবে এবং কোনো জাহাজে হয়রানি করবে না। বিনিময়ে আমেরিকাও তার নৌ অবরোধ তুলে নেবে।
দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশ নতুন করে আলোচনায় বসবে। ৬০ দিনের সময়সীমার শুরুতেই ইরানের মজুত থাকা প্রায় ৯৭০ পাউন্ড সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিষ্পত্তি এবং সমৃদ্ধকরণের নিয়মাবলী নির্ধারণ করা হবে। এই চুক্তির সফল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে লেবাননে ইজ়রায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতির বিষয়টিও।
অর্থনৈতিক প্যাকেজ ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল
চুক্তি কার্যকর হলে আমেরিকা ইরানের ওপর থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে এবং বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা তেহরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মধ্যে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার ব্যবহারের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। এছাড়া সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবটি হলো, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ইরানের পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল গঠনে সম্মতি দিতে পারে আমেরিকা।
ট্রাম্পের সিলমোহর না পড়ার কারণ ও জটিলতা
চুক্তির খসড়া তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এতে সই করেননি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, চুক্তির ভাষা সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে এখনও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে, যার কারণে প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাও জানিয়েছে যে তেহরানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া এই চুক্তিকে চূড়ান্ত বলা যাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অনীহার পেছনে ইজ়রায়েলের চাপ এবং চুক্তির শর্তাবলীর কঠোরতা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মতভেদ কাজ করছে। ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিলমোহর না পড়লে এই শান্তিপ্রক্রিয়া যেকোনো সময় ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা।
