ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বানাতে দেবে না আমেরিকা! ৩০০ বিলিয়ন ডলার সাহায্যের দাবি ওড়ালেন ট্রাম্প – এবেলা

ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বানাতে দেবে না আমেরিকা! ৩০০ বিলিয়ন ডলার সাহায্যের দাবি ওড়ালেন ট্রাম্প – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ওয়াশিংটন: দীর্ঘ ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির আবহ তৈরি হয়েছিল, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতি। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান ভবিষ্যতে আর কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে রাজি হয়েছে। একই সঙ্গে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানকে পুনর্গঠনের জন্য আমেরিকার ৩০০ বিলিয়ন ডলার (৩০ হাজার কোটি ডলার) দেওয়ার যে দাবি উঠেছিল, তা-ও সপাটে খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।

আগামী শুক্রবার সুইৎজ়ারল্যান্ডে দু’পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, তাঁর প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই— ইরান যেন কোনওভাবেই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হয়ে না ওঠে।

৩০০ বিলিয়ন ডলারের গল্পটা কী?

দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার ইঙ্গিত মিলতেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর রটে যায় যে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানকে পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি বিশাল তহবিল দেবে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের পক্ষ থেকেই মূলত এই দাবি তোলা হয়েছিল যে, আর্থিক সাহায্য ছাড়া শান্তি বজায় রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু ট্রাম্প এই খবরকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এই গুজব ছড়ানোর পেছনে তিনি বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবিরের দিকেই আঙুল তুলেছেন।

চুক্তির টেবিলে আসলে কী রয়েছে?

ইতিমধ্যেই আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতাপত্র (MoU) সই হয়েছে। যেখানে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাঘেই গালিবাফ। আগামী শুক্রবার চুক্তির বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করার কথা রয়েছে আমেরিকার।

প্রাথমিক সূত্র অনুযায়ী, চুক্তির সম্ভাব্য কাঠামোয় যা যা থাকছে:

  • ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কড়া নজরদারির নতুন পরিকাঠামো।
  • ইরানের ওপর থেকে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
  • বাণিজ্যিক যাতায়াতের জন্য হরমুজ় প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া।
  • যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে আনা।

তাহলে কি চুক্তিতে আবার বাধা?

ট্রাম্প ‘ইরানের পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের’ দাবি করলেও, তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি আর পরমাণু চুক্তি দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। ফলে শুক্রবারের চূড়ান্ত সইসাবুদের আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই বিপরীতমুখী অবস্থান কি শান্তি প্রক্রিয়াকে আবার থমকে দেবে? মঙ্গলবার ট্রাম্পের এই দাবির পর এখন সেই আশঙ্কাই দানা বাঁধছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *