ইরানকে বেইমানির কড়া জবাব দিলেন ট্রাম্প শুরু হচ্ছে কঠোর নৌ অবরোধ

ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন খাদের কিনারায়। আলোচনার টেবিলে কোনো রফাসূত্র না মেলায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান আলোচনার টেবিলে ফিরল কি ফিরল না, তাতে ওয়াশিংটনের আর কিছু যায় আসে না।
আলোচনার টেবিলে বেইমানির অভিযোগ
মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, ইরান তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা ভঙ্গ করায় বিষয়টিকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছে আমেরিকা। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সোমবার থেকেই ইরানের সমস্ত বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় কঠোর নৌ অবরোধ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
ভেস্তে গেল ইসলামাবাদের আলোচনা
শুক্রবার ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন জেডি ভ্যান্স। আমেরিকার দাবি, তারা ইরানের সামনে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রস্তাবটিই রেখেছিল। কিন্তু ইরান সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। সমঝোতা না হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:
- পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে আমেরিকা কঠোর নিশ্চয়তা চেয়েছিল, যা দিতে ইরান ব্যর্থ হয়েছে।
- ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ ক্ষমতা সাম্প্রতিক সংঘাতে এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে দাবি আমেরিকার।
- আমেরিকার আরোপিত শর্তগুলোকে ইরান ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অতিরিক্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
জ্বালানি বাজারে বড় সংকটের পূর্বাভাস
এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী এবং ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু হলে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। কূটনীতিকদের মতে, এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতি ঘটাতে পারে।
সামরিক শক্তি ও কৌশলগত চাপ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েই আমেরিকা এখন পূর্ণমাত্রায় চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। অন্যদিকে, ইরান এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকেই দায়ী করছে। তাদের মতে, আমেরিকা আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করেছে।
এক ঝলকে
- ইসলামাবাদে মার্কিন-ইরান দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে।
- ইরান প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে অভিযোগে সোমবার থেকে সব বন্দরে নৌ অবরোধ শুরু করছে আমেরিকা।
- তেহরান আলোচনায় ফিরুক বা না ফিরুক, তাতে আমেরিকার কোনো আগ্রহ নেই বলে ট্রাম্পের ঘোষণা।
- অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার প্রবল আশঙ্কা।
- পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করার নিশ্চয়তা না আসায় থমকে গেছে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া।
