ইরানে মার্কিন-ইজরায়েল হামলা: এক মাস পরেও অধরা লক্ষ্য, রণক্ষেত্রে সক্রিয় হুতি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর এক মাস অতিক্রান্ত। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইজরায়েল দাবি করেছিল যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন, যা পরবর্তীতে তেহরান নিশ্চিত করে। খামেনেই ছাড়াও আইআরজিসি প্রধানসহ একাধিক শীর্ষ সামরিক নেতার মৃত্যুতে ইরান সরকারের পতন ঘটবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করলেও, বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। উল্টো ইরানের অনড় অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং অনেক দেশের পণ্যবাহী জাহাজ আটকে পড়েছে। ট্রাম্প এই প্রণালী মুক্ত করতে সামরিক হুঁশিয়ারি ও সময়সীমা বেঁধে দিলেও শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে ১৫ দফার প্রস্তাব নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা চললেও সরাসরি কোনো সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতির লক্ষণ এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে আলোচনার আবহেও রণাঙ্গনে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়েছে তেহরান। শনিবার সৌদি আরব ও কুয়েতের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। নতুন মাত্রা যোগ করে ইরানের সমর্থনে সরাসরি যুদ্ধে নেমেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। হুতি মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি ইজরায়েলের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। ওয়াশিংটন যুদ্ধ শেষের দাবি করলেও হুতিদের প্রবেশ এবং ইরানের পাল্টা প্রতিরোধ ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

