ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন ব্ল্যাকহক লক্ষ্য করে গুলি, ২৪ ঘণ্টায় জোড়া যুদ্ধবিমান হারিয়ে দিশেহারা ট্রাম্প

ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন ব্ল্যাকহক লক্ষ্য করে গুলি, ২৪ ঘণ্টায় জোড়া যুদ্ধবিমান হারিয়ে দিশেহারা ট্রাম্প

পশ্চিম এশিয়ায় চরম বিপর্যয়ের মুখে মার্কিন সামরিক বাহিনী। নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করতে গিয়ে ইরানের সেনার গুলিবর্ষণের মুখে পড়ল আমেরিকার শক্তিশালী ‘ব্ল্যাকহক’ হেলিকপ্টার। গত ২৪ ঘণ্টায় একের পর এক ধাক্কায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। সূত্রের খবর, দু’টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়ার পর তল্লাশি অভিযানে পাঠানো হয়েছিল দু’টি ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারকে। কিন্তু ইরানি সেনার ক্রমাগত হামলার মুখে উদ্ধারকাজ আসামাপ্ত রেখেই পিছু হটতে বাধ্য হয় মার্কিন কপ্টারগুলি। তবে আক্রান্ত কপ্টারের কর্মীদের আঘাত কতটা গুরুতর, তা এখনও অস্পষ্ট।

আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে প্রথমে একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কুয়েতের হরমুজ প্রণালীর কাছে দ্বিতীয় ধাক্কাটি খায় আমেরিকা, সেখানে ধ্বংস হয় একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান। যদিও দু’টি বিমানের পাইলটদের মধ্যে দু’জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে এক জন পাইলট এখনও নিখোঁজ। এই সংবেদনশীল পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুখে কুলুপ এঁটেছেন। অন্যদিকে, নিখোঁজ ‘শত্রু’ পাইলটকে জীবন্ত ধরতে পারলে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা করেছে ইরান। বর্তমানে এফ-১৫ই ভেঙে পড়ার স্থানটি ঘিরে রেখেছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী।

পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। যদিও হোয়াইট হাউস দাবি করছে যে পরিস্থিতি তাদের আয়ত্তে রয়েছে এবং সমঝোতা আলোচনায় কোনো প্রভাব পড়বে না, তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পাকিস্তানে নির্ধারিত সমঝোতা বৈঠকে বসতে ইরান সরাসরি অস্বীকার করায় কূটনৈতিক পথও রুদ্ধ হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩০০ জনেরও বেশি। উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হওয়ায় এবং একের পর এক বিমান ধ্বংস হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *