ইরানের আকাশে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হলেও আলোচনার পথ খোলা রাখছেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই চরম অস্থিরতার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, সামরিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সমান্তরালভাবে চলবে। তিনি বলেন, বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি চললেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রথম ঘটনায় একটি ‘ইউএস এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল’ (US F-15E Strike Eagle) যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয় বলে জানা গিয়েছে। ওই বিমানের দুই ক্রু সদস্যের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজনের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এরপরই আরও একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন এক শীর্ষ কর্মকর্তা। দ্বিতীয় বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে নাকি ইরান তা গুলি করে নামিয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মাঝে উদ্ধারকাজ নিয়ে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি পরিস্থিতির স্পর্শকাতরতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বর্তমান সংবাদ মাধ্যমের কভারেজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, রণক্ষেত্রের জটিলতাগুলো সঠিক আঙ্গিকে তুলে ধরা হচ্ছে না। যদিও ট্রাম্প আলোচনার কথা বলছেন, তবে তেহরানের কঠোর অবস্থান কূটনৈতিক মহলে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
বিপরীত দিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদের বৈঠকে বসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। পাকিস্তান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চলছিল, তা আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের বর্তমান দাবিগুলো তাদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে রণক্ষেত্রে ধ্বংসলীলা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
