ইরানের তেল শিল্পে চরম বিপর্যয়, খাগ দ্বীপের কাছে সমুদ্রে ভয়াবহ তেল নিঃসরণ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খাগ (Kharg) দ্বীপের কাছে সমুদ্রে বড় ধরনের তেল নিঃসরণের ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে পারস্য উপসাগরের বিশাল এলাকা জুড়ে তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ইরানের তেল শিল্প এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।
বিপর্যয়ের চিত্র ও প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি
স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘অরবিটাল ইওএস’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ থেকে ৮ মে-র মধ্যে খাগ দ্বীপের চারপাশে প্রায় ২০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাথমিক অনুমান বলছে, সমুদ্রের জলতে প্রায় ৩ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মিশে গেছে। ইরান তাদের মোট খনিজ তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন করে। ফলে এই ছিদ্র বা নিঃসরণ কেবল পরিবেশগত বিপর্যয় নয়, বরং দেশটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জরাজীর্ণ পরিকাঠামো ও মার্কিন চাপ
এই তেল নিঃসরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো অস্পষ্ট। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের তেল পরিবহনের পাইপলাইনগুলো বেশ পুরনো। বিশেষ করে আবুজার অয়েল ফিল্ড থেকে আসা সাবমেরিন পাইপলাইনে ফাটল ধরার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনী ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে কড়া নজরদারি ও অবরোধ জোরদার করায় ইরানের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রপ্তানি করতে না পারায় উৎপাদিত তেল ট্যাঙ্কারে মজুত করে রাখতে হচ্ছে, যা পরিকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কা ও প্রভাব
মার্কিন অবরোধের ফলে গত এপ্রিল মাস থেকে ইরান বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব হারিয়েছে বলে দাবি করছে পেন্টাগন। বর্তমানে ইরানের তেল মজুত করার ক্ষমতা প্রায় শেষ পর্যায়ে। তথ্য বিশ্লেষণী সংস্থা কেপলার (Kpler) জানিয়েছে, রপ্তানি বন্ধ থাকলে আগামী ১২ থেকে ২২ দিনের মধ্যে ইরানের সমস্ত স্টোরেজ ট্যাঙ্ক পূর্ণ হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে কারিগরি জটিলতা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে তেল উত্তোলন কমিয়ে দিতে পারে তেহরান, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটির খনিজ তেলের কূয়াগুলোর ক্ষতি করতে পারে। বর্তমানে এই সংকট কাটাতে ইরান ৩০ বছরের পুরনো বিশালকার জাহাজগুলোকে সমুদ্রে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে।
