ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধ, হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা

ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধ, হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মেঘ আরও ঘনীভূত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা থেকেই হরমুজ প্রণালী এলাকায় কার্যত অবরোধ শুরু করছে মার্কিন বাহিনী। ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে এই কঠোর অবস্থান কার্যকর হতে যাচ্ছে, যা ইরান ও আমেরিকার সম্পর্ককে এক নতুন সংঘাতের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মার্কিন অবরোধের পরিধি ও উদ্দেশ্য

মার্কিন নৌসেনার পক্ষ থেকে দেওয়া বিস্তারিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, এই পদক্ষেপ কোনো নির্দিষ্ট একটি দেশের বিরুদ্ধে নয়। মূলত ইরানের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত নাভিশ্বাস টেনে ধরাই এই অবরোধের লক্ষ্য। এই প্রক্রিয়ার অধীনে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কার্যকর করা হবে:

  • যেসব জাহাজ সরাসরি ইরানের কোনো বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করবে বা বের হবে, মার্কিন সেনা কেবল সেগুলোকেই আটকাবে।
  • আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের বন্দরগুলোকেও এই অবরোধের আওতায় রাখা হয়েছে।
  • তবে যেসব জাহাজ ইরানি বন্দর এড়িয়ে শুধুমাত্র হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে যাতায়াত করবে, তাদের ক্ষেত্রে মার্কিন নৌবাহিনী কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।
  • অবরোধ প্রক্রিয়া শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট নাবিকদের জন্য আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা জারি করা হবে।

অবৈধ শুল্ক এবং মাইন অপসারণের ঘোষণা

ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ তুলেছেন যে, অনেক দেশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানকে বেআইনিভাবে শুল্ক প্রদান করছে। যারা এই ধরণের লেনদেন করবে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে সমুদ্রপথে ইরানের পেতে রাখা মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু করবে মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্পের সাফ কথা, মার্কিন স্বার্থে আঘাত এলে তার জবাব হবে কঠোর ও সরাসরি।

ইরানের পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি

আমেরিকার এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী। তাদের দাবি, হরমুজের দিকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের যেকোনো অগ্রযাত্রা হবে যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকা যদি যুদ্ধ চায়, তবে ইরানও যুদ্ধের মাধ্যমেই তার জবাব দেবে। তবে আলোচনার পথ খোলা থাকলে তারা যুক্তির পথে হাঁটতে রাজি আছেন বলেও জানান তিনি।

ইসলামাবাদ বৈঠক ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

গত শনিবার ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগাচি এবং স্পিকার গালিবাফের দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনা চলে। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পরেও দুই দেশ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণা করা দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এখন পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মুখে। কূটনীতিকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীর এই অবরোধ বিশ্ববাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এক ঝলকে

  • সময়: সোমবার ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে অবরোধ কার্যকর।
  • লক্ষ্য: ইরানের বন্দরে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে আসা জাহাজ আটকানো।
  • মার্কিন অভিযোগ: ইরান সমুদ্রপথে বেআইনি শুল্ক আদায় করছে এবং মাইন পুঁতে রেখেছে।
  • ইরানের অবস্থান: মার্কিন রণতরি এগোলে যুদ্ধ শুরু হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি।
  • প্রেক্ষাপট: ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় এই চরম উত্তেজনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *