ইরানের বিধ্বংসী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লণ্ডভণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের ১৩টি মার্কিন ঘাঁটি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। ইরানের ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই অঞ্চলে থাকা অন্তত ১৩টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, এই ঘাঁটিগুলো বর্তমানে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পেন্টাগন অভিযান চালিয়ে যাওয়ার দাবি করলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। কুয়েতের আলি আল সালেম, কাতারের আল উদেদ এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্রগুলো এখন অকেজো।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মূল ঘাঁটিগুলো তছনছ হয়ে যাওয়ায় মার্কিন সেনারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য স্থানীয় হোটেল এবং সরকারি দফতরে ঠাঁই নিয়েছেন। সেখান থেকেই বর্তমানে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা চলছে। তবে পরিকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় যুদ্ধ পরিচালনায় পদে পদে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে মার্কিন ফৌজ। নিরাপত্তাহীনতার কারণে হাজার হাজার সেনাকে ইতিমধ্যেই ইউরোপে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের যোগাযোগ ব্যবস্থাও ইরানি হামলায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।
আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানের ৭০০০-এর বেশি ঠিকানায় পাল্টা হামলার দাবি করলেও মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়নি। কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা ও ক্যাম্প বুহরিং-সহ একাধিক ঘাঁটি বর্তমানে ব্যবহারের অযোগ্য। কাতারের বিমান ঘাঁটির রাডার সিস্টেম এবং সৌদি আরবের জ্বালানি ট্যাঙ্কারগুলো ধ্বংস হওয়ায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে মার্কিন বাহিনীর ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

