ইসলামাবাদকে গুঁড়িয়ে দিতে কাবুলের ভয়ংকর ছক! ডুরান্ড লাইনে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝে এবার নামছে তালিবানি আত্মঘাতী বাহিনী – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ডুরান্ড লাইনে জ্বলে উঠল যুদ্ধের লেলিহান শিখা। গত শুক্রবার ভোররাত থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় শুরু হয়েছে বিধ্বংসী লড়াই। হামলা এবং পাল্টা প্রত্যাঘাতে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে দুই দেশের সীমান্ত। তবে এবারের লড়াইয়ে ইসলামাবাদকে চরম শিক্ষা দিতে এক অভাবনীয় এবং ভয়ংকর কৌশল গ্রহণ করেছে কাবুল। একাধিক আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, পাক বাহিনীকে কোণঠাসা করতে এবার নিজেদের সবথেকে শক্তিশালী অস্ত্র ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ বা আত্মঘাতী বাহিনীকে সক্রিয় করেছে তালিবান সরকার।
ইতিহাস সাক্ষী আছে, অতীতে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পরবর্তীতে আমেরিকার মতো মহাশক্তিধর দেশগুলোকে আফগানিস্তান থেকে তাড়াতে এই আত্মঘাতী হামলার পথই বেছে নিয়েছিল যোদ্ধারা। এবার সেই একই মরণকামড় দিতে তৈরি হচ্ছে কাবুল। তালিবান নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেত পেলেই পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি বা কৌশলগত অবস্থানে গাড়ি বোমা ও ফিদায়েঁ হামলা চালাতে এক মুহূর্তও দ্বিধা করবে না এই বিশেষ বাহিনী।
তালিবানের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরত এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ডুরান্ড লাইন সংলগ্ন বিতর্কিত সীমান্ত এবং খোস্ত প্রদেশে ইতিমধ্যেই জবাবি হামলা শুরু করেছে আফগান বাহিনী। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত। এরপরই আফগান যোদ্ধাদের দমনে ‘অপারেশন ঘাজাব লিল হক’ নামে এক বড়সড় সামরিক অভিযান শুরু করে পাকিস্তান।
দুই দেশের এই সংঘাত এখন চরম রক্তক্ষয়ী মোড় নিয়েছে। তালিবান সরকারের দাবি, তাদের পাল্টা আক্রমণে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে। যদিও পাকিস্তান এই দাবি পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিয়ে জানিয়েছে যে, তাদের মাত্র ২ জন সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। উল্টোদিকে ইসলামাবাদের দাবি, পাকিস্তানি বিমান ও স্থলবাহিনীর হামলায় অন্তত ৩৬ জন আফগান যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন।
সীমান্তের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। দুই দেশকেই অবিলম্বে অস্ত্র সংবরণ করে সংযত হওয়ার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে কাবুলের ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ সক্রিয় হওয়ার খবরে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আতঙ্কের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।

