ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা, বাংলায় কি তবে তৈরি হচ্ছে সাংবিধানিক সংকট?

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি এখনই পদত্যাগ করছেন না। তাঁর দাবি, নির্বাচনে কারচুপি ও ভোট লুট করা হয়েছে, ফলে পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না। সাধারণত নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেন, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের দীর্ঘদিনের রীতি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান রাজ্যের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সংবিধান ও আইনি বাধ্যবাধকতা
সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী যদি নিজে থেকে ইস্তফা না দেন, তবে সংবিধানে সরাসরি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার উল্লেখ নেই। কারণ, হারার পর মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়বেন না—এমন পরিস্থিতি আগে কখনও কল্পনা করা হয়নি। বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে। নিয়ম অনুযায়ী, ইস্তফা না দিলেও ওই দিন পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদে বহাল থাকবেন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বের আইনি বৈধতা হারাবে এবং তিনি পদাধিকারবলে ‘প্রাক্তন’ হয়ে যাবেন। ফলে তাঁর ইস্তফা না দেওয়াটা মূলত রাজনৈতিক ও নৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।
নতুন সরকার গঠন ও অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতি
বিজেপি রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন করার কথা রয়েছে। যদি ৯ মে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করে, তবে ৭ মে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মধ্যবর্তী সময়টুকুতে এক ধরনের প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে। এই স্বল্প সময়ের জন্য রাজ্যপাল নিজে তদারকি করতে পারেন অথবা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। তবে প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে রাজ্যপাল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে ‘তদারকি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করতে পারতেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অনিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত ইস্তফা না দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত মমতার রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে কেমন প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
