উজ্জ্বল ত্বক ও ঘন চুলের রহস্য এবার কুমড়াবীজের তেলে

উজ্জ্বল ত্বক ও ঘন চুলের রহস্য এবার কুমড়াবীজের তেলে

চুলের যত্নে নারকেল বা রোজ়মেরি অয়েলের জনপ্রিয়তা থাকলেও বর্তমানে প্রসাধনী বাজারে নতুন চমক হিসেবে উঠে এসেছে কুমড়াবীজের তেল। স্বাস্থ্য সচেতনদের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নেওয়ার পর এবার কেশচর্চায় এই তেলের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাজারে বর্তমানে এই তেলের পাশাপাশি এর ক্যাপসুলও সহজলভ্য। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কুমড়াবীজের তেলে থাকা ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড, ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট চুলের ফলিকল মজবুত করে চুল পড়া রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

২০২১ সালে ‘জার্নাল অফ কসমেটিক ডার্মাটোলজি’-তে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মহিলাদের চুল ঝরার সমস্যায় কুমড়াবীজের তেল প্রয়োগ করে ইতিবাচক ফল মিলেছে। এমনকি চুল ঝরার চিকিৎসায় পরিচিত ওষুধ ‘মিনোক্সিডিল’ (৫ শতাংশ)-এর তুলনায় তিন মাসের ব্যবধানে এই তেল অনেক বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এতে থাকা ফাইটোস্টেরল মূলত ডিহাইড্রোটেস্টোস্টেরন তৈরিতে বাধা দিয়ে চুল পড়া কমায় এবং চুলের অকাল পক্বতা রোধ করে গুণগত মান বজায় রাখে। কেবল চুল নয়, নখ ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতেও এই তেলের পুষ্টিগুণ অনস্বীকার্য।

এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কেশচর্চা শিল্পীরা বিশেষ পদ্ধতির পরামর্শ দিচ্ছেন। শ্যাম্পু করার পর শুকনো চুলে সিঁথি কেটে আঙুলের ডগায় তেল নিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করা যেতে পারে। তেলের পুষ্টি যাতে চুলের গোড়ায় পৌঁছায়, সেজন্য ডার্মা রোলার ব্যবহার করা অত্যন্ত কার্যকর। এতে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। এছাড়া অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এর ক্যাপসুলও গ্রহণ করে থাকেন।

তবে কুমড়াবীজের তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। যাদের কুমড়াবীজে অ্যালার্জি রয়েছে কিংবা যারা নিয়মিত হরমোন ও রক্তচাপের ওষুধ সেবন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই তেল ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বা প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে এটি আপনার রূপচর্চায় এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *