উঠে যাওয়া দলকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারের আলোয় আনার প্রয়োজন নেই, বার্তা শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর ঘিরে তৈরি হওয়া জনরোষের আবহে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত শনিবার দলের এক নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। সরাসরি নাম না নিলেও, মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান।
রাজনৈতিক গুরুত্বহীনতার বার্তা
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, যে দল নির্বাচনে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে এবং কার্যত অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে, তাদের বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, তৃণমূল নেতাদের ঘিরে যে বিক্ষোভের ছবি বিভিন্ন জায়গায় উঠে আসছে, তা আসলে জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। তিনি দলের কর্মীদের আইন হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘ফলতায় পুনর্নির্বাচনে চতুর্থ হওয়া এই পার্টিকে এত প্রচার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিক্ষোভ বা জনরোষ দেখিয়ে এদের গুরুত্ব বাড়ানোর মানে হয় না।’
অশান্তির নেপথ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
সোনারপুরের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনলেও, শাসকদল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভাগ-বাঁটোয়ারার লড়াইয়ের ফল। তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ধৃতদের মধ্যে তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের অনুগামীদের নাম পাওয়া গেছে, যা তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্বকেই আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
শুধু সোনারপুর নয়, চণ্ডীতলায় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা রাজ্যে বিরোধী দলের রাজনৈতিক আধিপত্য ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধিত ক্ষোভকে সামনে এনেছে। প্রশাসন ও বিরোধী শিবিরের এই দ্বৈরথ আসন্ন দিনগুলিতে রাজ্যের রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
