লেটেস্ট নিউজ

উত্তরপাড়ায় কি এবার ইমনের সুর, টিকিট না পেয়ে কি বিস্ফারক কাঞ্চন মল্লিক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক

বাংলার রাজনীতির আঙিনায় নির্বাচনের দামামা বাজলেই শুরু হয় তারকা প্রার্থীদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ইতিমধ্যেই ঘর গোছাতে শুরু করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই আবহেই টলিপাড়ার অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে এক চাঞ্চল্যকর পরিবর্তনের গুঞ্জন। উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে এবার হয়তো আর দেখা যাবে না বিদায়ী বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিককে। তাঁর পরিবর্তে সেই আসনে ঘাসফুল শিবিরের বাজি হতে পারেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়িকা ইমন চক্রবর্তী।

কোয়েল মল্লিকের পর এবার কি ইমনের পালা

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের কন্যা কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৬ মার্চ সেই নির্বাচন। কোয়েলের এই সংসদীয় রাজনীতিতে পদার্পণের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আলোচনার কেন্দ্রে ইমন চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, উত্তরপাড়ার ঘরের ছেলে কাঞ্চনকে সরিয়ে সেখানে ইমনের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চাইছে দলীয় নেতৃত্ব। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়েনি, তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা এখন তুঙ্গে।

বিতর্কের জেরেই কি টিকিট খোয়াচ্ছেন কাঞ্চন

গত কয়েক বছরে বিধায়ক হিসেবে কাজের চেয়েও ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিতর্কে বেশি নাম জড়িয়েছে কাঞ্চন মল্লিকের। প্রাক্তন স্ত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ, খোরপোশ বাবদ ৫৬ লক্ষ টাকা প্রদান এবং বিচ্ছেদের এক মাসের মধ্যেই শ্রীময়ী চট্টরাজকে বিয়ের ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। এখানেই শেষ নয়, আরজি কর আবহে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য এবং সদ্যোজাত কন্যা কৃষভির জন্মের সময় হাসপাতালের বিশাল অঙ্কের বিল নিয়ে তৈরি হওয়া চর্চা দলের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। সম্ভবত এই সব কারণেই এবার তাঁকে প্রার্থী তালিকা থেকে দূরে রাখার চিন্তাভাবনা করছে দল।

‘আমি কখনও সুপারিশ করিনি’, মুখ খুললেন কাঞ্চন

টিকিট পাওয়া নিয়ে যখন চারিদিকে হাজারো প্রশ্ন, তখন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন কাঞ্চন মল্লিক। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, বিধায়ক হওয়ার জন্য তিনি কখনও কারও কাছে সুপারিশ বা তদ্বির করেননি। তাঁর কথায়, “প্রথমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধেই আমি নির্বাচনে লড়েছিলাম। তৃণমূল কংগ্রেস কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি নয়। দলীয় নেতৃত্ব যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমি মাথা পেতে নেব।” নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দলের হাতে ছেড়ে দিলেও তাঁর গলায় অভিমানের সুর কি না, তা নিয়ে চলছে কাটাছেঁড়া।

ব্যক্তিগত জীবনে খোশমেজাজে অভিনেতা

রাজনীতিতে ডামাডোল চললেও ব্যক্তিগত জীবনে কিন্তু বেশ ফুরফুরে মেজাজেই রয়েছেন কাঞ্চন। সম্প্রতি স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ঘরের হেঁশেলে প্রিয় স্বামীর জন্য শুঁটকি মাছের ভর্তা রেঁধেছেন তিনি। রাজনীতির ময়দানে পদ হারানোর ভয় থাকলেও, ঘরের ডাইনিং টেবিলে তৃপ্তি করে শুঁটকি ভর্তা খেতে দেখা গিয়েছে অভিনেতাকে।

এখন দেখার বিষয়, উত্তরপাড়ার সাধারণ মানুষ আগামী দিনে কার ওপর ভরসা রাখেন। সেখানে কি ইমনের সুরের জাদু কাজ করবে, নাকি শেষ মুহূর্তে পুরনো সৈনিক কাঞ্চনের ওপরেই ফের বাজি ধরবে তৃণমূল হাইকমান্ড? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা বঙ্গ রাজনীতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *