উন্মাদ তুমি, আমি না থাকলে জেলেই থাকতে! নেতানিয়াহুকে তীব্র ভর্ৎসনা ট্রাম্পের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের আবহে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওপর রীতিমতো ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা ‘রেজিম চেঞ্জ ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অফ ডোনাল্ড ট্রাম্প’ শীর্ষক বইয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। বইটির দাবি অনুযায়ী, মার্কিন কূটনীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টার মধ্যেই ইজরায়েলের আগ্রাসী পদক্ষেপে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে নেতানিয়াহুকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প।
কাতারে হামলা ও হোয়াইট হাউসে তলব
গাজা যুদ্ধ থামাতে আমেরিকা যখন মরিয়া, ঠিক সেই সময়েই কাতারে হামাস নেতাদের হত্যা করতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইজরায়েল। এই ঘটনাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুকে ফোন করে ট্রাম্প কড়া ভাষায় বলেন যে স্বয়ং ইহুদি সম্প্রদায়ও তাঁর ওপর বিরক্ত। ওই ফোনালাপে উপস্থিত থাকা আরও দুই ইহুদি মার্কিন আধিকারিকের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে হোয়াইট হাউসে ডেকে পাঠান এবং তাঁর সামনেই কাতারের শাসকের কাছে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ফাটল ও সম্ভাব্য প্রভাব
ট্রাম্প বর্তমানে যুদ্ধ থামাতে এবং ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর করতে চাইলেও ইজরায়েল তা মানতে নারাজ। উলটে লেবানন-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে তারা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইজরায়েলের এই অনীহাই দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে বিরোধের প্রধান কারণ। ক্ষুব্ধ ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে মার্কিন সমর্থন না থাকলে তাঁকে জেলেই থাকতে হতো। শীর্ষ নেতৃত্বের এমন প্রকাশ্য ক্ষোভ ইজরায়েল ও আমেরিকার দীর্ঘদিনের মজবুত কূটনৈতিক সম্পর্কে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনা যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইজরায়েল আরও একঘরে হয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
