উপনির্বাচনের আগেই ব্যাকফুটে কমিশন! আইএসএফের ‘খাম’ প্রতীকের মামলায় তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
September 28, 20263:25 pm
কলকাতা: উপনির্বাচনের ঠিক মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বড়সড় আইনি ধাক্কার মুখে পড়ল নির্বাচন কমিশন। আইএসএফ-এর (ISF) পরিচিত ‘খাম’ প্রতীক কেড়ে নেওয়া এবং নতুন প্রতীক বরাদ্দ করা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে এক চরম আইনি লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতির বেঞ্চ মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছে।
বিগত বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফ ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করেছিল। কিন্তু আসন্ন উপনির্বাচনে নওশাদ সিদ্দিকীদের সেই চেনা প্রতীক কেড়ে নিয়ে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-কে দেওয়া হয় এবং আইএসএফ-কে দেওয়া হয় ‘আলমারি’ প্রতীক। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই আদালতে যায় আইএসএফ।
কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা আদালতের: শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের নিয়ম এক নয়। রাজনৈতিক প্রতীক কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। তবে এই যুক্তি শোনামাত্রই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতির প্রশ্ন— দুটি দল একই প্রতীকের দাবি জানালে কোন নিয়মে একটিকে বাদ দেওয়া হলো? আদালত সাফ জানায়, নির্বাচনী কর্তৃপক্ষকে শতভাগ নিরপেক্ষ হতে হবে এবং কেন একটি আবেদন বাতিল করা হলো তার সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে কমিশনকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
আদালতে চরম আইনি লড়াই: আইএসএফের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন, উপনির্বাচন মূলত মূল সাধারণ নির্বাচনেরই অংশ। তাহলে হঠাৎ ‘খাম’ প্রতীক বাতিল করা হবে কেন? অন্যদিকে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পছন্দের তালিকার পক্ষে যুক্তি দিলে আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, প্রতীক বরাদ্দের পর নতুন করে কোনো ‘মনগড়া যুক্তি’ দাঁড় করানো যাবে না।
আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ঠিক তার মুখে হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থান রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর সবার।
