‘উলুখাগড়ার প্রাণান্ত!’ ইরান যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে পাকিস্তান, তেলের দামে নাভিশ্বাস শাহবাজের দেশে

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে অবস্থান করেও সংঘাতের ভয়াবহ আঁচ থেকে রেহাই পাচ্ছে না পাকিস্তান। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার এই লড়াইয়ের জেরে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে শাহবাজ শরিফের প্রশাসন। সম্প্রতি এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, এই যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানিতে পাকিস্তানের খরচ ৩০০ মিলিয়ন ডলার থেকে একলাফে ৮০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই বিপুল আর্থিক চাপ সামলাতে গিয়ে কার্যত দেউলিয়া হওয়ার পথে দেশটি।
আকাশছোঁয়া তেলের দাম ও জনজীবনে অস্থিরতা
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহণে বাধার কারণে পাকিস্তানে জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে। হু হু করে কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সরকারি পরিবহণের সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংকট উত্তরণে সহায়তার খোঁজ
এই সংকটময় মুহূর্তে কিছুটা স্বস্তির জন্য পাকিস্তান তাকিয়ে আছে বিদেশি বন্ধুদের দিকে। শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বিশেষ প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক চুক্তির কারণে পাকিস্তান এখনো এই বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে টিকে আছে। তবে ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা এবং তেলের উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকলে দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পাকিস্তানের জ্বালানি আমদানির খরচ বেড়ে ৮০০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
- দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে।
- পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ী কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে।
- অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে বর্তমানে সৌদি আরবের সঙ্গে করা চুক্তির ওপর ভরসা করছে ইসলামাবাদ।
