ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা নিয়ে চরম সংঘাত, স্পিকারের সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করছে কালীঘাট? – এবেলা

ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা নিয়ে চরম সংঘাত, স্পিকারের সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করছে কালীঘাট? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে ‘নতুন তৃণমূল’ বনাম ‘মূল তৃণমূল’ সংঘাত এবার আইনি লড়াইয়ের রূপ নিতে চলেছে। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর নিয়োগ করার সিদ্ধান্তকে তীব্র চ্যালেঞ্জ জানাতে চলেছে কালীঘাট। দলীয় সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবুজ সংকেত মিললেই স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হবে শাসক দল। তবে আইনি পথে হাঁটার আগে বিধানসভার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির জন্য অপেক্ষা করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক বিতর্ক

গত বুধবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘নতুন তৃণমূল’ আত্মপ্রকাশ করার পর স্পিকার তাঁদের জন্য বিরোধী দলনেতার ঘর খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বেআইনি। দল থেকে বহিষ্কৃত কোনো নেতা কোনোভাবেই বিরোধী দলনেতার পদ পেতে পারেন না। দলের লোকসভার সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, যা হয়েছে তা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং এটি যে বেআইনি তা আদালতেই প্রমাণ হবে। তিনি ইতিমধ্যেই এই ‘দলচুরি’র বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের জোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন।

আইনি মারপ্যাঁচে স্পিকারের যুক্তি

অন্যদিকে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। তাঁর যুক্তি, কাউকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হলে নির্দিষ্ট আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে, যা এখানে মানা হয়নি। কারণ দর্শানোর নোটিস বা জবাব দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে আচমকা বহিষ্কার বৈধ হতে পারে না। একইসঙ্গে স্পিকারের দাবি, ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপুষ্ট শিবিরই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার বাস্তবতাকে অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয়। তিনি আইন মেনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

এই সংঘাতের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে। স্পিকারের একতিয়ার এবং দলের অন্দরের শৃঙ্খলা—এই দুইয়ের আইনি ব্যাখ্যা এখন আদালতের রায়ের ওপর নির্ভরশীল। যদি আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে, তবে মূল তৃণমূলের জন্য তা বড় ধাক্কা হবে। আর যদি কালীঘাটের পক্ষে রায় যায়, তবে ঋতব্রত শিবিরের রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। আপাতত কালীঘাট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য ঘুঁটি সাজাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *