এআই-এর কেন্দ্রে থাকুক মানুষ: ‘MANAV’ রূপরেখায় প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ ভাবনা
রাজধানীতে আয়োজিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর মূল বার্তা—প্রযুক্তি যেন মানুষের উপরে নয়, বরং মানুষের কল্যাণেই ব্যবহৃত হয়। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, দ্রুত প্রযুক্তির বিস্তারের এই সময়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত মানবকেন্দ্রিক। মানুষ যেন কেবল তথ্যের উৎস বা ‘ডেটা পয়েন্ট’ হিসেবে সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।
এই লক্ষ্যপূরণে প্রধানমন্ত্রী ‘MANAV’ নামক একটি নীতিগত রূপরেখা উপস্থাপন করেন। এই কাঠামোটি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: নৈতিক ব্যবস্থা, দায়বদ্ধ শাসন, তথ্যের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তি এবং স্বীকৃত আইনি কাঠামো। মোদী স্পষ্ট করে দেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বিকশিত হওয়ার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হলেও এর নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি অবশ্যই মানুষের হাতে থাকতে হবে। প্রযুক্তির গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে একে মুষ্টিমেয় কিছু সংস্থার নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
এআই-এর প্রভাবকে বেতার যোগাযোগের ঐতিহাসিক বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি এক বিশাল পরিবর্তনের সূচনা মাত্র। বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতাকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারত ভবিষ্যতের পথ চলতে চায়। তাঁর মতে, প্রযুক্তির চরম উন্নতির সময়েও যেন প্রতিটি মানুষের সুখ ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, সেটিই হবে আধুনিক বিশ্বের আসল সাফল্য।

