এআই-এর দাপটে মেটায় মহাধস, এক ধাক্কায় চাকরি হারাচ্ছেন ৮০০০ কর্মী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কর্মী ছাঁটাইয়ের মিছিলে এবার যোগ দিল টেক জায়ান্ট মেটা। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়ার কারণে নিজেদের মোট কর্মীবাহিনীর ১০ শতাংশ ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে মেটার প্রায় ৮,০০০ কর্মী রাতারাতি চাকরি হারাচ্ছেন, যা বিশ্বপ্রযুক্তি বাজারে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আজ ভোর ৪টেয় মেটার সিঙ্গাপুর হাবের কর্মীদের কাছে আকস্মিক বরখাস্তের নোটিশ পাঠানো হয় ইমেইলের মাধ্যমে। আকস্মিক এই ধাক্কায় চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এশীয় অঞ্চলের কর্মীরা। মেটা কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত মূলত তাদের নতুন ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ। চলতি বছরে মেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত এআই খাতের এই বিপুল ব্যয়ভার সামাল দিতেই সাধারণ কর্মীদের ওপর এই ছাঁটাইয়ের কোপ পড়েছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
প্রযুক্তি খাতে বড় ধাক্কা ও আগামী দিনের প্রভাব
মেটার এই বিশাল ছাঁটাইয়ের ধাক্কা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং পুরো সিলিকন ভ্যালিতে এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। মেটার পাশাপাশি আরেক জনপ্রিয় পেশাদার নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম লিঙ্কডইন-ও তাদের কর্মী কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ৬০৬ জন কর্মী ছাঁটাইয়ের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছে তারা।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গণছাঁটাইয়ের ফলে বিশ্বজুড়ে আইটি পেশাদারদের মধ্যে চরম কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হবে। তবে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে মানুষের কর্মসংস্থানের ধরনে। প্রথাগত আইটি বা টেক পদের চেয়ে এখন এআই এবং অটোমেশন চালিত পদের দিকেই বড় কো ম্পা নিগুলো বেশি ঝুঁকবে। ফলে মেটা ও লিঙ্কডইনের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও একই পথে হাঁটতে বাধ্য করতে পারে, যা বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করবে।
এক ঝলকে
আগামী মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও ৬০৬ জন কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে লিঙ্কডইন।
প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা তাদের মোট কর্মীবাহিনীর ১০% বা প্রায় ৮,০০০ কর্মী ছাঁটাই করছে।
আজ ভোর ৪টেয় সিঙ্গাপুর হাবের কর্মীদের ইমেইলে আকস্মিক বরখাস্তের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
চলতি বছরে এআই (AI) প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের ব্যয়ভার সামাল দিতেই মেটার এই সিদ্ধান্ত।
