এআই প্রযুক্তিতে ভুয়ো ভোটার কার্ড, ভাঙড়ে নির্বাচন কমিশনের কপালে চিন্তার ভাঁজ
ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাই প্রক্রিয়ায় ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। জান্নাতুল মোল্লা নামক এক ভোটার তাঁর বাবার পরিচয়পত্র হিসেবে যে নথিটি জমা দিয়েছেন, সেটি এআই-জেনারেটেড বলে শনাক্ত করেছে কমিশন। এমনকি ওই ভুয়া কার্ডে গুগল জেমিনাইয়ের লোগো এবং অস্তিত্বহীন এপিক নম্বর পাওয়া গেছে, যা নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রযুক্তির অপব্যবহারের এক নজিরবিহীন উদাহরণ।
তদন্তে প্রোজেনি ম্যাপিং বা পারিবারিক তথ্য যাচাইয়েও একাধিক অসঙ্গতি মিলেছে। ভাঙড় ও ক্যানিং পূর্বের বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এক বাবার আট সন্তানের জন্মসালের ব্যবধান মাত্র এক বছর বা তারও কম, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। মাসুমা খাতুন ও সেখ মুসিবার নামের দুই ভোটারের পারিবারিক তথ্যে এমন অসামঞ্জস্য ধরা পড়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এই জালিয়াতি চক্রের হদিস মেলায় নির্বাচন কমিশনের অন্দরে বর্তমানে ব্যাপক কাটাছেঁড়া চলছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিএলও এবং এইআরও-রা প্রাথমিক তদন্তে এই নথিগুলোকে বৈধ বলে ছাড়পত্র দিয়েছিলেন। বর্তমানে রোল অবজার্ভারের কাছে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রযুক্তির এমন অপব্যবহার রুখতে এবং ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশে কমিশন শেষ পর্যন্ত কী কড়া পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

