এক অকেলি লড় জায়েগি! ভোটযুদ্ধের ময়দানে মমতার সমর্থনে এবার অখিলেশ যাদব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার মহারণের আগে সরগরম জাতীয় রাজনীতি। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পর এবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে মুখ খুললেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, বাংলা নিজের মেয়েকেই বেছে নেবে। অখিলেশের এই সমর্থন বার্তা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
জাতীয় স্তরে বিরোধী ঐক্যের নতুন সমীকরণ
অখিলেশ যাদব তাঁর বার্তায় হিন্দি ভাষায় লিখেছেন, ‘এক অকেলি লড় জায়েগি, জিতেগি অর বড় জায়েগি’। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাই লড়ে জয়ী হবেন এবং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবেন। সমাজবাদী পার্টির প্রধানের মতে, প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূল সরকারের জয়ের ভিত্তি মজবুত হয়ে গিয়েছে এবং দ্বিতীয় দফার পর সেই জয়ের ইমারত আরও সুদৃঢ় হবে। তাঁর এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বাংলার ভোটকে তিনি স্রেফ ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, বরং রাজ্যের অস্মিতা রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছেন।
আঞ্চলিক শক্তির সংহতি ও প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যের নেতার এই প্রকাশ্য সমর্থন তৃণমূলের পালে বাড়তি হাওয়া জোগাবে। আম আদমি পার্টির পর সমাজবাদী পার্টির এই অবস্থান বিরোধী জোটের সমন্বয়কে আরও জোরালো করছে। বিজেপি বিরোধী প্রচারের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দলগুলি যেভাবে একে অপরের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তা জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে মমতার ব্যক্তিগত ক্যারিশমাকে অখিলেশ যেভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন, তা তৃণমূল শিবিরের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভোটের এই আবহে ভিনরাজ্যের নেতাদের সমর্থন তৃণমূলের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এতে সাধারণ ভোটারদের কাছে বার্তা যাচ্ছে যে, সর্বভারতীয় স্তরে মমতার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। অন্যদিকে বিরোধী শিবির এই সমর্থনকে গুরুত্ব দিতে নারাজ হলেও, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে অখিলেশের এই ‘দিদি হ্যায়, দিদি রহেগি’ স্লোগান যে নতুন মাত্রা যোগ করল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
এক ঝলকে
- পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানালেন অখিলেশ যাদব।
- অখিলেশের দাবি অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূলের জয়ের ভিত তৈরি হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় দফায় তা পূর্ণতা পাবে।
- কেজরিওয়ালের পর অখিলেশের এই অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বিরোধী আঞ্চলিক জোটের সংহতি প্রকাশ করছে।
- বাংলার নির্বাচনকে স্রেফ ভোট হিসেবে না দেখে রাজ্যের সংস্কৃতি ও পরিচয় রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন সপা প্রধান।
