এক দফাতেই ভোট সম্ভব বাংলায়! ভোট শেষে সিইও-র মন্তব্যে কি মোদী-শাহের মডেলেই সিলমোহর? – এবেলা

এক দফাতেই ভোট সম্ভব বাংলায়! ভোট শেষে সিইও-র মন্তব্যে কি মোদী-শাহের মডেলেই সিলমোহর? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ কয়েক দশকের ভোট-সন্ত্রাসের ইতিহাসে কি অবশেষে যবনিকা পড়তে চলেছে? রাজ্যের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট মিটতেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কণ্ঠে যে আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গিয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। সাত-আট দফার দীর্ঘসূত্রিতাকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাও এবার শান্তিতে ভোট করে রেকর্ড গড়েছে।

শান্তিপূর্ণ ভোটের নেপথ্যে কড়া নজরদারি

ভোট মিটতেই সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, দুই দফায় যেভাবে রক্তপাতহীন নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, তা গত কয়েক বছরের তুলনায় নজিরবিহীন। কোনো বড়সড় গণ্ডগোল বা প্রাণহানি ছাড়াই ভোটাররা বুথমুখী হয়েছেন। মূলত কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঠিক বিন্যাস এবং বুথের ভেতরে-বাইরে কমিশনের কঠোর অবস্থানই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করা হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে কোনো প্রভাবশালী নেতার রক্তচক্ষু বা পেশ পেশিশক্তির আস্ফালন সেভাবে চোখে পড়েনি, যা সাধারণ ভোটারদের মনে ভরসা জুগিয়েছে।

এক দফায় ভোটগ্রহণের জোরালো ইঙ্গিত

সিইও-র সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মন্তব্যটি ছিল এক দফায় নির্বাচন প্রসঙ্গে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তামিলনাড়ু বা কেরলের মতো বাংলাতেও এক দফায় ভোট করা সম্ভব ছিল এবং সেই বিষয়ে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর এই মন্তব্য কার্যত বিজেপি তথা বিরোধী শিবিরের দীর্ঘদিনের দাবিকেই মান্যতা দিচ্ছে। বিরোধীদের দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী ঠিকমতো ব্যবহার করলে দীর্ঘ সময় না নিয়ে একদিনেই স্বচ্ছ ভোট সম্ভব। সিইও-র এই ইঙ্গিতের পর আগামী দিনে বাংলায় নির্বাচনের চিত্র পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে বাংলায় দীর্ঘমেয়াদী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বদলে একদিনের ‘মেগা ফাইট’ দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কমিশনের এই অবস্থান যেমন প্রশাসনিক সক্ষমতাকে তুলে ধরেছে, তেমনই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গড়ে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়া সুস্থ গণতন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এক ঝলকে

  • কোনো প্রাণহানি বা বড় গণ্ডগোল ছাড়াই বাংলায় দুই দফার নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
  • তামিলনাড়ু ও কেরলের আদলে বাংলাতেও এক দফায় ভোট করা সম্ভব বলে মনে করেন সিইও মনোজ আগরওয়াল।
  • কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঠিক ব্যবহার ও কমিশনের জিরো টলারেন্স নীতিই এই শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির মূল কারণ।
  • গড় ভোটদানের হার ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়া মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ততাকে প্রমাণ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *