এক বছরের আয় খুইয়ে প্রিয় দলের পাশে! বিশ্বমঞ্চে জিম্বাবোয়ের ৬ ভক্তের উন্মাদনা দেখে তাজ্জব ক্রিকেট দুনিয়া – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপে ডার্ক হর্স হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জিম্বাবুয়ে। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে অপরাজিত থেকে সুপার এইট নিশ্চিত করে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছে সিকান্দার রাজার দল। তবে মাঠের ভেতরে খেলোয়াড়দের এই সাফল্যের পেছনে মাঠের বাইরে থাকা কয়েকজন পাগলাটে ভক্তের অবদান এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নিজেদের সারা বছরের উপার্জিত সর্বস্ব ঢেলে দিয়ে শ্রীলঙ্কার গ্যালারিতে জিম্বাবুয়েকে সমর্থন জুগিয়ে গিয়েছেন ৬ জন বিশেষ অনুরাগী।
ক্যাসেল কর্নার এবং এক অনন্য আত্মত্যাগ
২০১১ সালে হারারে স্পোর্টস ক্লাবের একটি স্ট্যান্ডের নামানুসারে তৈরি হওয়া ‘ক্যাসেল কর্নার’ গ্রুপের সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ২০০-র বেশি। কিন্তু চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেও শ্রীলঙ্কায় দলের পাশে থাকতে উড়ে এসেছিলেন মাত্র ৬ জন প্রতিনিধি। জানা গেছে, এই সফরের জন্য প্রত্যেক সদস্য খরচ করেছেন প্রায় ২০০০ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১.৮১ লক্ষ টাকা। উল্লেখ্য, জিম্বাবুয়েতে একজন সাধারণ মানুষের গড় বার্ষিক আয় ২৫০০ ডলারেরও কম। অর্থাৎ, স্রেফ প্রিয় দলকে উৎসাহ দিতে নিজেদের সারা বছরের রোজগার এক নিমেষে খরচ করে ফেলেছেন তারা।
সংসার ও পেশা ভুলে ক্রিকেটে মজেছেন যারা
এই ভক্তদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ম্যালভিন কোয়ারাম্বা, যিনি পেশায় একজন লেখক ও আইনের ছাত্র। তিনি সাফ জানান, দলকে বিদেশের মাটিতে একা লড়াই করতে দেখা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এই দলেই রয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার ও পেশাদার অ্যাকাউন্ট্যান্ট গডউইন মম্হিও। নিজের তিন সন্তানকে বাড়িতে রেখে শ্রীলঙ্কায় পাড়ি দেওয়া গডউইন বলেন, “প্রিয় জিনিসের জন্য খরচ করতে দ্বিধা নেই। এটা আমার জীবনের সেরা বিনিয়োগ।” দলের একমাত্র মহিলা সদস্য লিওনা তানিকওয়া এই টুর্নামেন্টের জন্য নিজের চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে মাঠে পড়ে রয়েছেন।
গ্যালারিতে সুরের মায়াজাল এবং ‘ক্যাপ্টেন’ রাজা
এই ভক্তদের বৈশিষ্ট্য কেবল তাদের উপস্থিতি নয়, বরং তাদের তৈরি করা বিশেষ গান। ‘শোনা’ এবং ‘নদেবেলে’ ভাষায় গাওয়া গানগুলোতে তারা মাতিয়ে রাখেন গ্যালারি। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর তারা গেয়ে ওঠেন ‘ওনফম্বানে ম্বেয়া মুৎসোয়েনে’, যার অর্থ— আমরা পবিত্র আত্মার সাথে এগিয়ে চলেছি।
খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স অনুযায়ী তাদের গানের সুরও বদলে যায়। অধিনায়ক সিকান্দার রাজার জন্য তারা গেয়ে থাকেন ‘ক্রেমোরা’ গানটি। জিম্বাবুইয়ানদের কাছে চায়ে দুধ যেমন অপরিহার্য, দলের জন্য রাজার গুরুত্ব বোঝাতেই এই রূপক ব্যবহার করা হয়। বোলার মুজারবানি কিংবা অলরাউন্ডার রায়ান বার্লের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা সুর।
বাজেট শেষ, তবুও তৃপ্তির হাসি
জিম্বাবুয়ে সুপার এইটে পৌঁছানোর পর এবার তাদের গন্তব্য ভারত। কিন্তু ভারতের মাটিতে প্রিয় দলকে সমর্থন করার সাধ্য আর নেই এই ৬ ভক্তের। পকেটে থাকা শেষ সম্বলটুকু খরচ হয়ে যাওয়ায় ভারত সফরে দলের সঙ্গী হতে পারছেন না তারা। শ্রীলঙ্কার মাঠ ছাড়ার আগে নিজেদের শেষ গানে তারা আক্ষেপ নয় বরং তৃপ্তি প্রকাশ করে গেয়েছেন— “আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি, এবার ঘরে ফেরার সময়।” প্রিয় দল সফল হয়েছে, এটাই তাদের কাছে বছরের সমস্ত আয়ের থেকে বড় পাওনা।

