এক মাসেই কোষাগারে ৭২ কোটি! বীরভূমের পাথর শিল্পে বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ বিজেপির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বীরভূমের পাথর শিল্প থেকে রাজস্ব আদায়ের চিত্রে রাতারাতি বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। পাথর পরিবহনে নতুন ও কঠোর মাল্টি-ডিপার্টমেন্টাল রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু হওয়ার প্রথম মাসেই রাজ্য সরকারের কোষাগারে জমা পড়েছে প্রায় ৭২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের খতিয়ান তুলে ধরেই আগের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাথর খাদান থেকে তোলাবাজি ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন সিউড়ির বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
নতুন ব্যবস্থায় আটকানো গেল চুরি
বিগত দিনে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় হওয়ায় সরকারি তহবিলে নামমাত্র অর্থ জমা পড়ত। জানা গিয়েছে, তখন প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১৯ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হতো। এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকারের নির্দেশে গত ১৭ মে থেকে বীরভূমের ৯টি রাজস্ব আদায় কেন্দ্রে একযোগে ভূমি ও ভূমি সংস্কার, পুলিশ, সাধারণ প্রশাসন এবং মোটর ভেহিকল— এই চার সরকারি দফতরের যৌথ নজরদারি শুরু হয়। এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণেই পাথর চুরির পথ কার্যত বন্ধ হয়েছে এবং রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ একধাক্কায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিপুল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
নয়া ব্যবস্থার এই সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তৃণমূল নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, অতীতে জাল ডিসিআর-এর মাধ্যমে বীরভূমের এই শিল্প থেকে অন্তত দশ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে এবং বিপুল অর্থ নির্দিষ্ট কিছু নেতার পকেটে গিয়েছে। তবে বর্তমান প্রশাসনিক নজরদারি অব্যাহত থাকলে পাথর শিল্প থেকে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি টাকা এবং বছরে অন্তত এক হাজার কোটি টাকা সরকারি রাজকোষে জমা পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন রাজ্যের রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, তেমনই ভবিষ্যতে বেআইনি কারবার ও তোলাবাজির দৌরাত্ম্য অনেকটাই নির্মূল করা সম্ভব হবে।
