একত্রবাসের সম্পর্ক ভাঙলেই তা অপরাধ নয়, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে বড় পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
একত্রবাস বা লিভ-ইন রিলেশনশিপে থাকার পর বিচ্ছেদ হলেই পুরুষ সঙ্গীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যায় না বলে স্পষ্ট জানাল সুপ্রিম কোর্ট। সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি এনভি নাগরত্ন পর্যবেক্ষণ করেন যে, দীর্ঘ সময় সম্মতির ভিত্তিতে সম্পর্কে থাকার পর সেটি ভেঙে যাওয়া মানেই তা ফৌজদারি অপরাধ নয়। এই ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অজুহাতে যৌন নির্যাতনের মামলা দায়ের করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
সম্মতি ও আইনি ঝুঁকি
মামলাটির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিযোগকারী তরুণী ও অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘ সময় একত্রে ছিলেন এবং তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। এই তথ্য উল্লেখ করে বিচারপতি জানান, যেখানে দুই প্রাপ্তবয়স্ক পারস্পরিক সম্মতিতে বছরের পর বছর বসবাস করেছেন, সেখানে বিচ্ছেদের পর ধর্ষণের অভিযোগ আনা যুক্তিসঙ্গত নয়। আদালত মনে করে, বিয়ে ছাড়া একত্রে থাকার সিদ্ধান্তে সবসময়ই কিছু সামাজিক ও আইনি ঝুঁকি থাকে এবং বিচ্ছেদ ঘটলেই সেটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
আদালতের অবস্থান ও সুরক্ষা
আবেদনকারীর আইনজীবীর দাবি ছিল, অভিযুক্ত যুবক বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তবে আদালত প্রশ্ন তুলেছে যে, বিয়ে না করেই কেন ওই তরুণী সম্পর্কে থাকতে এবং সন্তানের জন্ম দিতে রাজি হয়েছিলেন। যদিও বিচারপতি অভিযোগকারী তরুণীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, তবুও তিনি স্পষ্ট করে দেন যে এটি কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। তবে সন্তান ও নিজের সুরক্ষার জন্য তরুণী চাইলে নাগরিক আইনের অধীনে ভরণপোষণ বা খোরপোশ দাবি করতে পারেন।
এক ঝলকে
- লিভ-ইন সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয় বলে জানাল সুপ্রিম কোর্ট।
- দীর্ঘকালীন সম্মতির সম্পর্কের পর ধর্ষণের অভিযোগ আনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি।
- বিয়ে ছাড়া একত্রে থাকার ক্ষেত্রে অন্তর্নিহিত ঝুঁকির বিষয়ে সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- আদালত জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ফৌজদারি মামলা না চললেও সন্তান ভরণপোষণ পাওয়ার যোগ্য।
