এটিএম-এ টাকা তুলতে গিয়ে ফোঁসফোঁস শব্দ! মেশিনের পেছনে তাকাতেই রক্ত জল করা দৃশ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ধূপগুড়ি: পুজোর কেনাকাটার আনন্দে মেতে উঠেছিলেন বাসিন্দারা। কেনাকাটার উদ্দেশ্যে রবিবার দুপুরে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম কাউন্টারে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন কয়েকজন গ্রাহক। কিন্তু সেখানে তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক চরম শিউরে ওঠার মতো চমক!
টাকা তোলার জন্য মেশিনে কার্ড পাঞ্চ করার মুহূর্তেই এটিএমের পেছনের অন্ধকার কোণ থেকে ভেসে আসতে থাকে একটানা অদ্ভুত ফোঁসফোঁস শব্দ। উৎস খুঁজতে গিয়ে মেশিনের পেছনে তাকাতেই উপস্থিত গ্রাহকদের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। দেখা যায়, মেশিনের পেছনের সংকীর্ণ ফাঁকা জায়গায় কুণ্ডলী পাকিয়ে ফণা তুলে বসে রয়েছে প্রায় চার ফুট লম্বা এক জ্যান্ত বিষধর গোখরো!
ভয়ে টাকা তোলার কথা ভুলে গিয়ে চিৎকার করতে করতে এটিএম থেকে বাইরে দৌড়ে আসেন সকলেই। নিমেষেই খবর ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায় এবং এটিএম চত্বরে উৎসুক মানুষের চরম ভিড় জমে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় বন্যপ্রাণী ও পরিবেশপ্রেমী সংস্থা ‘ডুয়ার্স নেচার অ্যান্ড স্নেক লাভার অর্গানাইজেশন’-এর সদস্যরা। এটিএমের ভেতরের সংকীর্ণ জায়গা এবং তারের জালের কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে সদস্যদের সুদীর্ঘ এক ঘণ্টার সতর্ক ও রুদ্ধশ্বাস প্রচেষ্টায় অবশেষে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে খাঁচাবন্দি করা হয়।
উদ্ধারকারীরা জানান, চার ফুট লম্বা এই গোখরোটি অত্যন্ত বিষধর ছিল। অসাবধানতাবশত কারও পায়ে লাগলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। পরবর্তীতে সাপটিকে নিরাপদ গভীর জঙ্গলে মুক্ত করে দেওয়া হয়। সাপটি উদ্ধারের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের স্বস্তির নিঃশ্বাস মিললেও, বদ্ধ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে কীভাবে এমন বিশালাকার সাপের প্রবেশ ঘটল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
