এনআইএ-র সেলে শওকতের রাতভর পায়চারি, অভিষেককে দায়ী করে বিস্ফোরক পরিবার!

এনআইএ-র সেলে শওকতের রাতভর পায়চারি, অভিষেককে দায়ী করে বিস্ফোরক পরিবার!

নিজস্ব প্রতিবেদন: নিউটাউনের এনআইএ হেফাজত। চার দেওয়ালে বন্দি ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা। বাইরে তখন রাজনীতির উত্তাল হাওয়া, আর ভেতরে শওকতের জন্য কাটছে এক রুদ্ধশ্বাস নির্ঘুম রাত। ভাঙড়ে বোমাবাজি ও খুনের মামলায় এনআইএ-র জালে ধরা পড়ার পর, প্রথম রাতটা যেন তাঁর কাছে এক অনন্ত যন্ত্রণার দীর্ঘশ্বাস হয়ে এল।

সেলের ভেতরে রুদ্ধশ্বাস সময়:

জেরার তীব্র চাপ আর আইনের বেড়াজালে পিষ্ট শওকতের চোখেমুখে এখন ক্লান্তির স্পষ্ট রেখা। সূত্রে খবর, এনআইএ-র ওই সেলের পরিবেশে তিনি একেবারেই সাবলীল হতে পারছেন না। সারারাত তাঁকে সেলের ভেতরে পায়চারি করতে দেখা গেছে—যেন কোনো এক অদৃশ্য অস্থিরতা তাঁকে তাড়া করে ফিরছে। রাতের খাবার হিসেবে জুটল মাত্র একটি রুটি আর সামান্য তরকারি। ভোরের আলো ফোটার আগে সামান্য সময়ের জন্য চোখ লেগেছিল, কিন্তু সকালেই আবার সেই পরিচিত ধকল। চা ও বিস্কুটে কোনোমতে সারলেন সকালের প্রাতরাশ।

অভিষেকই কি ‘মাস্টারমাইন্ড’? বিস্ফোরক পরিবার:

শওকতের এই গ্রেপ্তারিকে ঘিরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কণ্ঠে এখন শুধুই বিদ্রোহের সুর। সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলে তাঁরা বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। পরিবারের দাবি, শওকতকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে ভাঙড়ে প্রার্থী করা হয়েছিল।

পরিবারের সদস্যদের কথায়, “শওকত বারবার অনুরোধ করেছিল ভাঙড়ে না পাঠানোর জন্য, কিন্তু দল তাঁর কথা শোনেনি। তাঁকে কার্যত বলির পাঁঠা বানিয়েই ভাঙড়ে পাঠানো হয়েছিল, যার পরিণতি আজ এই জেল হাজত।”

রাজনীতিতে কি বড়সড় ভাঙন?

দলেরই এক প্রথম সারির নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এমন সরাসরি ও আক্রমণাত্মক অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় কম্পন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শওকতের পরিবারের এই বিদ্রোহ কেবল একটি পারিবারিক আর্তনাদ নয়, এর পেছনে দলের অন্দরের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ থাকতে পারে। এই ঘটনা কি তৃণমূলের সাংগঠনিক স্তরে বড় কোনো রদবদল বা ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? নাকি এনআইএ-র জেরায় ফাঁস হতে চলেছে দলের ভেতরের আরও বড় কোনো গোপন সমীকরণ? উত্তর পেতে নজর থাকবে আগামী দিনগুলোর দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *