এবার লন্ডনেও ‘ডিম-থেরাপি’! বাংলাদেশের সংসদ সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলায় গ্রেপ্তার ৩ – এবেলা

এবার লন্ডনেও ‘ডিম-থেরাপি’! বাংলাদেশের সংসদ সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলায় গ্রেপ্তার ৩ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের আঁচ এবার ছড়িয়ে পড়েছে সুদূর যুক্তরাজ্যের বুকেও। লন্ডনে সফররত বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির শীর্ষ নেতা তথা সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও তাঁর দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হকের ওপর ডিম হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জেরে পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত দলীয় সভা প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লন্ডন পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার গভীর মেরুকরণ ও অসহিষ্ণুতাকে পুনরায় সামনে এনেছে।

উত্তেজনার সূত্রপাত যেভাবে

সোমবার পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্তোরাঁয় এনসিপির যুক্তরাজ্য শাখা এক বিশেষ রাজনৈতিক সভার আয়োজন করে, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের আগে হাসনাত আবদুল্লাহ ও এহতেশামুল হক কাছের একটি পার্কে হাঁটছিলেন। এ সময় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে তাঁদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁরা একটি স্থানীয় হোটেলে আশ্রয় নিলেও বিক্ষোভকারীরা পিছু ছাড়েনি। পুলিশ এসে ভিড় সরানোর চেষ্টা করার আগেই সংসদ সদস্য ও তাঁর সহযোগীদের লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়া হয়, যা সরাসরি এহতেশামুল হকের গায়ে লাগে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেকসহ তিনজনকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। এনসিপির ব্রিটেন শাখা এই আক্রমণকে কাপুরুষোচিত বলে তীব্র নিন্দা জানালেও, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব এই ঘটনার সাথে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশে ক্ষমতার রাজনৈতিক সমীকরণ বদল ও দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক চরম বৈরিতা প্রবাসে স্থানান্তরিত হওয়াই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মূল কারণ। নিজেদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে ও প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করতে প্রবাসী নেতা-কর্মীরা এই পথ বেছে নিয়েছেন। এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল ও সংঘাত আরও বাড়তে পারে। একই সাথে, বিদেশি মাটিতে এ ধরনের উগ্র ও বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রবাসে বাংলাদেশি দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সমাবেশের ওপর স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা কড়াকড়ি এবং আইনি নজরদারি আরও কঠোর হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *