এলপিজির বদলে এবার কি বিকল্প জ্বালানি ডাইমিথাইল ইথার ব্যবহারের পথে ভারত?

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট এবং এলপিজি সিলিন্ডারের ক্রমবর্ধমান মূল্যের আবহে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে বড় পদক্ষেপ নিলেন পুণের বিজ্ঞানীরা। ২০১৬ সাল থেকে পুণের সিএসআইআর-এনসিএল (ন্যাশনাল কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি)-এর গবেষকরা এলপিজির বিকল্প হিসেবে ‘ডাইমিথাইল ইথার’ (ডিএমই) নামক একটি বিশেষ জৈব জ্বালানি নিয়ে কাজ করছিলেন। সম্প্রতি গবেষক রাজা থিরুমালাইস্বামী ও তাঁর দল জানিয়েছেন যে, এই গ্যাসটি রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজির একটি শক্তিশালী এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
ডাইমিথাইল ইথার মূলত মিথানল থেকে তৈরি একটি বর্ণহীন জৈব যৌগ। এটি দহনের সময় কোনো ক্ষতিকর নাইট্রিক অক্সাইড বা সালফার ডাই অক্সাইড নির্গত করে না, ফলে একে ‘ক্লিন বার্নিং ফুয়েল’ বলা হয়। এলপিজির মতোই এই গ্যাসটি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা সম্ভব এবং সিলিন্ডারে করে সহজে পরিবহনযোগ্য। ওজোন স্তরের ক্ষতি না করায় এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং ক্লোরোফ্লুরোকার্বনের মতো দূষণকারী উপাদান তৈরিতে বাধা দেয়। শিল্পক্ষেত্রে ডিজেলের বিকল্প হিসেবেও এই গ্যাসের বহুমুখী ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই জ্বালানির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর উৎপাদন প্রক্রিয়া। এটি কয়লা, কৃষি বর্জ্য, পচা লতাপাতা, গোবর এমনকি প্লাস্টিক বর্জ্য থেকেও তৈরি করা সম্ভব। ফলে একদিকে যেমন প্লাস্টিক দূষণ কমবে, অন্যদিকে কলকারখানা থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইডকে বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় (হাইড্রোজেনেশন) পুনরায় ডাইমিথাইল ইথারে রূপান্তর করা যাবে। এতে আমদানিকৃত এলপিজির ওপর ভারতের নির্ভরতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে পুণের এই পরীক্ষাগারে দৈনিক ২৫০০ কেজি ডাইমিথাইল ইথার উৎপাদন শুরু হয়েছে। বিজ্ঞানীরা প্রাথমিকভাবে এলপিজির সঙ্গে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ এই গ্যাস মিশিয়ে রান্নার কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন। ভারতের এই উন্নত প্রযুক্তিতে ইতিমইধ্যে ফিনল্যান্ড ও ঘানার মতো দেশগুলো গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পেলে এটি ভারতের নিজস্ব জ্বালানি বাজারে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।
