এসআইআর আতঙ্কে স্বজনহারা পরিবারগুলোর পাশে মুখ্যমন্ত্রী, নিয়োগপত্র পাচ্ছেন ৬১ জন – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আতঙ্কে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। সেই শোকাতুর পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে বড়সড় মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী সোমবার নবান্ন থেকে সরাসরি ৬১ জন নিহতের পরিবারের হাতে স্পেশাল হোমগার্ড পদের নিয়োগপত্র তুলে দেবেন তিনি। মূলত যারা এই প্রক্রিয়ার জেরে মানসিক চাপে বা আতঙ্কে প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই রাজ্য সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর আগরপাড়ার প্রদীপ করের আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে রাজ্যে এসআইআর আতঙ্ক এক ভয়ংকর রূপ নেয়। তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে এনআরসি বা নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। এরপর একে একে টিটাগড়, নৈহাটি, আমডাঙা থেকে শুরু করে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো জেলাগুলোতেও মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হতে থাকে। তালিকায় যেমন সাধারণ নাগরিকরা রয়েছেন, তেমনই কাজের প্রবল চাপে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন বিএলও-ও।
নবান্ন সূত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নেওয়া হয়েছে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে—
- মুর্শিদাবাদ: সর্বোচ্চ ১১ জন
- পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর: ৪ জন করে মোট ৮ জন
- পূর্ব বর্ধমান ও মালদহ: ৫ জন করে
- দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও জলপাইগুড়ি: ৫ জন করে
- বীরভূম ও নদিয়া: যথাক্রমে ৪ ও ৩ জন
- কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা: ১ ও ২ জন
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এই পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশনের ‘অপরিকল্পিত’ কার্যপ্রণালী এবং অতিরিক্ত চাপকে দায়ী করা হয়েছে। অনেক পরিবারই তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে স্থির হয় যে, এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হোমগার্ডের চাকরিতে নিয়োগের মাধ্যমে তাদের আর্থিক সংকটের স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে। সোমবারের এই নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে স্বস্তির আবহাওয়া তৈরি হয়েছে।

