ঐতিহাসিক ক্যাবিনেট: চাকরিতে আবেদনের বয়স বাড়ল ৫ বছর, ৪৫ পর্যন্ত সুযোগ! – এবেলা

ঐতিহাসিক ক্যাবিনেট: চাকরিতে আবেদনের বয়স বাড়ল ৫ বছর, ৪৫ পর্যন্ত সুযোগ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে পালাবদলের পর দায়িত্ব নিয়েই কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে নতুন বিজেপি সরকার। মঙ্গলবার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা একধাক্কায় ৫ বছর বাড়ানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে সাধারণ বিভাগের চাকরিপ্রার্থীরা ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ পাবেন। এছাড়া অনগ্রসর শ্রেণির জন্য এই সীমা ৪৮ বছর এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত প্রার্থীদের জন্য ৫০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, রাজ্যে দীর্ঘদিনের নিয়োগ স্থবিরতায় যাঁদের বয়স পেরিয়ে গিয়েছে, তাঁদের সুযোগ করে দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থেই এই দ্রুত পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক সংস্কার ও জনকল্যাণে গুচ্ছ পরিকল্পনা

চাকরির বয়স বৃদ্ধি ছাড়াও মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটাতে আইএএস, আইপিএস এবং ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের বাধা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে এদিন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ কার্যকর করার পাশাপাশি ঝুলে থাকা জাতীয় জনগণনা প্রক্রিয়া দ্রুত শুরুর জন্য বিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নজরে বেতন কমিশন ও বকেয়া ডিএ

রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণেও ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী সোমবার পুনরায় ক্যাবিনেট বৈঠক ডাকা হয়েছে যেখানে সপ্তম বেতন কমিশন ও বকেয়া ডিএ (মহার্ঘ ভাতা) প্রদানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এছাড়া নারী সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগের বয়স বাড়িয়ে যেমন শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চলছে, তেমনি ডিএ ও বেতন কমিশনের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমনের পথে হাঁটছে নতুন প্রশাসন। এতে আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক গতিশীলতা ও কর্মসংস্থানের পরিবেশ আমূল বদলে যেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *