ঐতিহাসিক পাথরায় বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৩০০ বছরের প্রাচীন স্থাপত্য, কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবিতে সরব ইয়াসিন পাঠান!

ঐতিহাসিক পাথরায় বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৩০০ বছরের প্রাচীন স্থাপত্য, কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবিতে সরব ইয়াসিন পাঠান!

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরের অদূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক মন্দিরময় পাথরায় বুলডোজার দিয়ে ৩০০ বছরের প্রাচীন এক স্থাপত্য গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসন ও ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের (এএসআই) দ্বারস্থ হয়েছেন পাথরার প্রাচীন ঐতিহ্য ও মন্দির রক্ষার আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ইয়াসিন পাঠান। তাঁর অভিযোগ, ঐতিহ্যবাহী ‘সুড়ঙ্গ অট্টালিকা’ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হলেও এর নিচে থাকা সুপ্রাচীন সুড়ঙ্গটি এখনও অক্ষত রয়েছে।

প্রশাসনিক উদাসীনতা ও ঐতিহ্য ধ্বংসের কারণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেদিনীপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের মালিকানাধীন এই জমিতেই সুড়ঙ্গযুক্ত প্রাচীন অট্টালিকাটি অবস্থিত ছিল। গত প্রায় ছয় মাস আগে লালু পাল নামে এক স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী জমিটি কেনেন। ইয়াসিন পাঠানের দাবি, নির্বাচনী মরশুমের প্রশাসনিক ব্যস্ততা ও টালবাহানার সুযোগ নিয়ে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের পর কোনো এক সময়ে আইন লঙ্ঘন করে এই প্রাচীন স্থাপত্যটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে মাটি সমতল করে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী অবশ্য দাবি করেছেন, ভবনটি পূর্বেই ভগ্নপ্রায় অবস্থায় ছিল এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব না জেনেই তিনি জমিটি পরিষ্কার করার কাজ করেছেন।

পুনরুদ্ধারের দাবি ও সম্ভাব্য প্রভাব

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং গত ৫০ বছর ধরে পাথরার ৩৪টি হিন্দু মন্দির আগলে রাখার জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘কবীর পুরস্কার’ প্রাপ্ত ইয়াসিন পাঠান জানান, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি হলেও প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য এভাবে ধ্বংস করার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইন রয়েছে। তিনি প্রশাসনকে সুপ্রাচীন ইটগুলো উদ্ধার করে চুন-সুরকি দিয়ে পুনরায় এই ঐতিহাসিক অট্টালিকাটি গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর জেলার ইতিহাসপ্রেমী ও পর্যটকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা পাথরার পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *