ঐতিহ্যবাহী স্থানে ৯ টাকা মাসিক বেতন! ঐতিহাসিকদের পারিশ্রমিক শুনে স্তম্ভিত হাইকোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক খোশবাগ সমাধিক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থানে কর্মরত কর্মীদের মাসিক ভাতার পরিমাণ শুনে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বর্তমানে যেখানে আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি, সেখানে কর্মীরা মাত্র ৫ টাকা, ৭ টাকা কিংবা ৯ টাকা মাসিক বেতনে কাজ করছেন শুনে বিচারপতি অমৃতা সিনহা হতবাক হয়ে যান। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে চেয়ে ইতিমধ্যেই নোটিশ জারি করেছে আদালত।
ব্রিটিশ আমলের প্রাচীন নিয়ম ও কেন্দ্রের যুক্তি মামলাকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৯৭ সাল থেকে এই কর্মীরা নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও তাঁদের পারিশ্রমিক আজও ২০০০ সালের আগের স্তরেই আটকে আছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এই অর্থ মূলত ব্রিটিশ আমলের ‘পলিটিক্যাল পেনশন’ হিসেবে প্রদান করা হয়। ১৯৫২ সালের একটি নির্দেশিকা অনুযায়ী এই পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধি করা সম্ভব নয় বলে কেন্দ্র আগে জানিয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে একজন কর্মীর মাসিক বেতন ১৫ টাকা বা ৯ টাকা হওয়া অমানবিক ও অবাস্তব বলে মনে করছে আদালত।
ঐতিহ্যের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক উদাসীনতা মুর্শিদাবাদের সিরাজউদ্দৌলার সমাধি বা আলিবর্দি খাঁর তৈরি উদ্যান খোশবাগের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মীরাই এই বঞ্চনার শিকার। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে এই দায়বদ্ধতা নিয়ে টানাপড়েন চলায় কর্মীদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই নগণ্য পারিশ্রমিক কেবল কর্মীদের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলছে না, বরং ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলোর ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণকেও সংকটে ফেলছে। আদালতের হস্তক্ষেপে আগামী ৪ মে পরবর্তী শুনানিতে কেন্দ্রের উত্তরের ওপরই নির্ভর করছে কয়েক দশকের এই আইনি জটিলতার অবসান।
এক ঝলকে
- ঐতিহাসিক খোশবাগে কর্মীদের মাসিক বেতন ৫ থেকে ২২ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় বিস্ময় প্রকাশ কলকাতা হাইকোর্টের।
- ১৯৫২ সালের পুরনো নির্দেশিকার দোহাই দিয়ে ব্রিটিশ আমলের এই ‘পলিটিক্যাল পেনশন’ বাড়াতে নারাজ কেন্দ্রীয় সরকার।
- ১৯৯৭ সালে নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা ২০০০ সাল থেকে বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে এলেও এখনও মেলেনি সুরাহা।
- আগামী ৪ মে মামলার পরবর্তী শুনানিতে কেন্দ্রকে হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
