‘ও আমার সাথে থাকে না, তাই ভোটও দিতে পারবে না’, স্ত্রীর ভোটার কার্ড কাড়তে গিয়ে শ্রীঘরে স্বামী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়ায় একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে পারিবারিক বিবাদের জেরে নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল ফাঁসিদেওয়া তারাবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথ নম্বর ২৫/২৩৮-এর সামনে এক ব্যক্তি তার বিচ্ছিন্ন স্ত্রীর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। দীর্ঘ দুই বছর আলাদা থাকার পর স্ত্রী ভোট দিতে আসবেন জেনেই সকাল থেকে ওত পেতে বসেছিল ওই ব্যক্তি। নারীটি বুথে প্রবেশ করতে গেলে তার চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে বাধা দেওয়া হয় এবং ভোটার কার্ড ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে।
পারিবারিক বিবাদ ও ভোটার কার্ড বিতর্ক
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, দম্পতিটি দীর্ঘ দুই বছর ধরে বিচ্ছিন্ন। স্ত্রীর ভোটার কার্ডে এখনও স্বামীর নাম থাকায় এবং তিনি বর্তমানে অন্যের সঙ্গে বসবাস করায় ক্ষুব্ধ ছিল ওই ব্যক্তি। তার অদ্ভুত দাবি ছিল, ভোটার কার্ড থেকে স্বামীর নাম না সরানো পর্যন্ত ওই নারীকে ভোট দিতে দেওয়া যাবে না। এই ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই দীর্ঘ সময় অভুক্ত থেকে ওই ব্যক্তি বুথের সামনে হামলার সুযোগ খুঁজছিল।
নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপ ও ভোট গ্রহণ
ঘটনার আকস্মিকতায় বুথ চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় সেখানে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী (CAPF)। জওয়ানরা হামলাকারী স্বামীকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নির্বাচন আধিকারিকরা সাফ জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত বিবাদের কারণে কারও সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত কড়া পাহারায় ওই নারী তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
এই ঘটনার ফলে নির্বাচনী এলাকায় সাময়িক চাঞ্চল্য তৈরি হলেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ কীভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে, এই ঘটনাটি তারই উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়ায় ভোট দিতে আসা স্ত্রীর ওপর স্বামীর বর্বরোচিত হামলা।
- ভোটার কার্ডে স্বামীর নাম থাকা নিয়ে আপত্তির জেরে ভোটাধিকার রুখতে এই আক্রমণ।
- কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CAPF) হস্তক্ষেপে হামলাকারী আটক এবং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ।
- কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ওই নারী নিজের ভোট প্রদান সম্পন্ন করেন।
